বিদেশের বাজারে কদর বাড়ছে যশোরের বাঁধাকপির
যশোরের চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নের কৃষকদের উৎপাদিত বাঁধাকপি এখন বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।
যশোরের কৃষকদের উৎপাদিত বাঁধাকপি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুর ইউনিয়নের কৃষকরা এই সবজি চাষ করে নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে পণ্যটি পাঠাতে পেরে কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।
কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, যশোর জেলা সবজি উৎপাদনে দেশে শীর্ষস্থানীয়। এখানকার কৃষকরা সারা বছরই গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত থাকেন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১৯ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে সদর উপজেলার অংশ ৩ হাজার ৩শ’ হেক্টর। বিশেষ করে ৬১৩ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত বাঁধাকপির মধ্যে হৈবতপুরে ২১০ হেক্টর ও চুড়ামনকাটিতে ১৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
চুড়ামনকাটি ও হৈবতপুরের বাঁধাকপির গুণমান দেশজুড়ে সমাদৃত। জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন ও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সহায়তায় স্থানীয় আব্দুলপুর ও শাহাবাজপুরে সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। এখান থেকেই বাঁধাকপি প্যাকেটজাত করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ১৮৮ মেট্রিক টন বাঁধাকপি রপ্তানির মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে ৩৩০ টন, ২০২০ সালে ৪২৫ টন, ২০২১ সালে ৫৯০.৭২৪ টন, ২০২২ সালে ৫৭০ টন এবং ২০২৩ সালে ৬১০.৩৪২ মেট্রিক টন বাঁধাকপি রপ্তানি করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলীর মতে, আব্দুলপুর, পোলতাডাঙ্গা, বাগডাঙ্গা ও শাহাবাজপুরের মতো এলাকাগুলো বাঁধাকপি চাষের জন্য বিখ্যাত। ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে এই সবজি চাষের আগ্রহ ক্রমাগত বাড়ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, যশোরের সবজি এখন বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বিষমুক্ত সবজি আবাদ নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।