শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দীর্ঘায়িত

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 6 দিন আগে | সারাদেশ

Administrator

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দীর্ঘায়িত

কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকারের নিষেধাজ্ঞা স্বাভাবিক তিন মাসের চেয়ে অতিরিক্ত ষোলো দিন বর্ধিত হয়েছে প্রজনন মৌসুম সুরক্ষার জন্য।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

কাপ্তাই হ্রদে চলমান মৎস্য শিকার নিষেধাজ্ঞার সময় আরও দশ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ১০ আগস্টের মধ্যরাত্রি পর্যন্ত হ্রদে মাছ আহরণ, পরিবহন এবং বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। স্থায়ী তিন মাসের বন্ধির সাথে যুক্ত হয়ে চলমান মৌসুমে মোট ষোলো দিনের অতিরিক্ত বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল একাদশটায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত সভায় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী সভাপতিত্ব করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইশতিয়াক হায়দার, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, জেলা মৎস্য অফিসার মিজানুর রহমান এবং মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

পানিস্বল্পতা এবং কার্পজাতীয় মাছের প্রজনন মৌসুম বিবেচনায় গত ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত হ্রদে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। তবে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন, হ্রদে অবমুক্ত পোনা মাছের যথাযথ বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক মৎস্যসম্পদ সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

নতুন আয়োজন অনুযায়ী ১০ আগস্টের রাত থেকে কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য আহরণের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং ১১ আগস্ট সকাল থেকে আনুষ্ঠানিক মৎস্য অবতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। হ্রদ পুনরায় চালু করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইকোবোট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইতিমধ্যে চলছে।

কাপ্তাই হ্রদে প্রতি বছর সাধারণত ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মৎস্য আহরণ বন্ধ থাকে। এই সময়কালকে কার্পবর্গীয় মাছের প্রজনন ঋতু হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা, পোনার স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রতিবছর এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার সময়পর্বে হ্রদের উপর নির্ভরশীল প্রায় ২৬ হাজার জেলে বিশেষ ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। এই সামাজিক সুরক্ষা প্রোগ্রাম তাদের মৌসুমী আয়ের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।