ইলিশের আকালে দিশেহারা ভোলার জেলেরা
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ। মাছ না পাওয়ায় ঋণের বোঝা বাড়ছে জেলেদের, বাধ্য হয়ে পেশা বদলাচ্ছেন অনেকে।
ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। মাছের তীব্র সংকটে একদিকে যেমন বাজারে ইলিশের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে, অন্যদিকে উপকূলীয় জেলে পল্লীগুলোতে নেমে এসেছে চরম হতাশা।
সরেজমিনে ভোলার শিবপুর, খাল মাছ ঘাট, তুলাতুলি, দৌলতখানের মাঝির হাট ও কাজির হাটসহ বিভিন্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ঘাটে মাছের আমদানি নেই বললেই চলে।
স্থানীয় জেলে সবুজের ভাষ্যমতে, ঋণের টাকায় জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেও তেলের খরচটুকুও উঠছে না। দেনার দায়ে জর্জরিত অনেক জেলে বাধ্য হয়ে পেশা বদলে ঢাকা বা চট্টগ্রামে পাড়ি জমাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
আরেক জেলে আরিফ জানান, বৃষ্টি ও স্রোতসহ ইলিশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও জালে মাছ ধরা পড়ছে না। শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের আকালও দেখা দিয়েছে।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ আহরণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পলি জমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, জাটকার গতিপথে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট বিভিন্ন বাধার কারণে ইলিশের এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে নদীতে পানির প্রবাহ বাড়লে মাছের উপস্থিতি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।