বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

আশুলিয়ায় প্রেশার কুকার বোমা আবিষ্কার, রাজধানীর ছাতা বোমার ঘটনার পরই দ্বিতীয় সন্ধান

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 6 দিন আগে | সারাদেশ

Administrator

আশুলিয়ায় প্রেশার কুকার বোমা আবিষ্কার, রাজধানীর ছাতা বোমার ঘটনার পরই দ্বিতীয় সন্ধান

আশুলিয়ার এক দোকানের সামনে পরিত্যক্ত ব্যাগে প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার পুলিশের, যা রাজধানীর ছাতা বোমা আবিষ্কারের দ্রুত পরে ঘটেছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

রাজধানীতে ছাতা বোমার আবিষ্কারের পর্যায়ে এবার আশুলিয়া এলাকায় বিপর্যয়কর একটি পরিস্থিতি সামনে এসেছে। একটি দোকানের সামনে পরিত্যক্ত ব্যাগের ভেতরে প্রেশার কুকার আকৃতির বোমা সংগৃহীত হয়েছে এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞ দল তৎক্ষণাৎ স্থানে উপস্থিত হয়ে সেই বিপজ্জনক সামগ্রী নিরাপদে নিরপেক্ষ করে ফেলেছে।

শুক্রবার দুপুর তিনটার সময় আশুলিয়া থানার তদন্তকারী অফিসার তরিকুল ইসলাম এই তথ্যাদি প্রকাশ করেন। তার জানামতে, এই ঘটনার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে প্রাথমিকী দায়ের করা হয়েছে আশুলিয়া থানায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতের একাদশ ঘণ্টা ছাড়িয়ে আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় 'জয়ী জেনারেল স্টোর' নামক চায়ের দোকানের সামনে একটি ব্যাগ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দোকানটির মালিক হৃদয় চাকমা। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাগটি অপরিচিত অবস্থায় থাকায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সন্দেহ জাগে এবং তারা ব্যাগটি খুলে দেখেন। ভেতরে প্রেশার কুকারের সদৃশ একটি বোমা চোখে পড়ায় তারা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে দ্রুত পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে অবহিত করা হয় এবং বিশেষায়িত বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল অবিলম্বে ঘটনাস্থলে নিয়োজিত হয়। শুক্রবার প্রত্যূষকালে ৬টা ২২ মিনিটে তারা বোমাটি নিকটবর্তী একটি ফাঁকা মাঠে স্থানান্তরিত করেন এবং মাটিতে একটি গভীর গর্ত খুঁড়ে বোমাটি সেখানে স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিশেষ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সেই বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যরাত অতিক্রম করে একটার দিকে তাদের কাছে সতর্কতা সংক্রান্ত যোগাযোগ পৌঁছায়। প্রায় তিনটা নাগাদ তাদের দল স্থানে পৌঁছে এই প্রেশার কুকার বোমাটি নিরাপদে সংগ্রহ করে নেয়। পরের দিন ভোরবেলায় একটি খোলা জায়গায় মাটিতে বিস্তৃত গর্ত তৈরি করে এবং চার পাশ থেকে বালুর থলি দিয়ে ঘিরে দিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ডিভাইসটি নিরপত্তার সাথে নিষ্পত্তি করা হয়।

আশুলিয়া থানার তদন্তকারী অফিসার তরিকুল ইসলাম জানান যে, সন্ধানকৃত বোমা পরিস্থিতি নিরাপদে সামলানো সম্ভব হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্ফোরক পদার্থ সংক্রান্ত আইনের অধীনে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সনাক্ত ও আটক করার লক্ষ্যে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে চব্বিশে জুলাই রাতে রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মেট্রোরেল স্টেশনের তলদেশ থেকে পাইপ বোমা আবিষ্কার করে পুলিশ উদ্ধার করেছিল।

সেই বোমা উদ্ধারের পর দায়েরকৃত মামলার সংক্রান্ত বিবৃতিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত) মোহাম্মদ শামসুল হক স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, ছাতাটির সাথে বোমাটি এমন কৌশলে সংযুক্ত ছিল যে ছাতাটি খোলা হলেই অবিলম্বে বিস্ফোরণ ঘটত। এই ধরনের আক্রমণে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানির সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি ছিল।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।