বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

১৪২ রানও তাড়া করতে পারলো না বাংলাদেশ

1 মাস আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | খেলা

Administrator

১৪২ রানও তাড়া করতে পারলো না বাংলাদেশ

বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে মাত্র ১৪২ রানের হালকা লক্ষ্য তাড়াতে ব্যর্থ হলো, ২৫ রানে হেরে গেলো।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জিম্বাবুয়ের মাটিতে বাংলাদেশের হতাশার অধ্যায় আরও দীর্ঘ হলো। একমাত্র টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না মেহেদী হাসান মিরাজের দল। মাত্র ১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে ২৫ রানের পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৬ জুলাই) হারারেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ১৪১ রানে অলআউট হলেও জবাবে বাংলাদেশ ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায়।

ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই শুরুতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ৬ বলে ৮ রান করা তানজিদ হাসান তামিম বিদায় নেন। আরেক ওপেনার সৌম্য সরকারও ব্যর্থ হন। তিনি ১০ বলে করেন মাত্র ৬ রান। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ের পর অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর দায়িত্ব বাড়লেও তিনি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মাত্র ৭ বলে ৩ রান করে ফিরে গিয়ে দলের সংকট আরও গভীর করেন তিনি।

১৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান ৪৯ রানের জুটি গড়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। হৃদয় ৫৮ বলে ২৫ রান করে আউট হলে উইকেটে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তবে শুরুতেই বড় শট খেলতে গিয়ে ৭ বলে ৩ রান করে বিদায় নেন তিনি। এরপর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ১০ রানের বেশি করতে পারেননি। এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া সোহান ৪৪ বলে ৩১ রান করে ফিরে গেলে বাংলাদেশের শেষ প্রতিরোধও ভেঙে পড়ে। এরপর আর কোনো ব্যাটার দাঁড়াতে না পারায় ১১৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ের শুরুটা ছিল স্বস্তিদায়ক। ওপেনার বেন কারান ও ব্রায়ান বেনেট ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে দলকে ভালো ভিত্তি এনে দেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে রান আউট হয়ে ফেরেন কারান। সেই ধাক্কার পরের বলেই তাসকিন আহমেদের শিকার হন ২৪ বলে ১৭ রান করা বেনেট। এরপর প্রথম বলেই ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে জিম্বাবুয়েকে আরও চাপে ফেলেন তাসকিন।

এরপর পুরো নিয়ন্ত্রণ নেন গতিময় পেসার নাহিদ রানা। তার গতি ও বাউন্সের সামনে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। সিকান্দার রাজা ১২ বলে ১ রান করে উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ দেন। ওয়েসলি মাধেভেরে কোনো রান না করেই স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন। ক্লাইভ মাদানধে করেন মাত্র ২ রান। ইনোসেন্ট কাইয়া একপ্রান্ত আগলে রাখার চেষ্টা করলেও ৩৯ বলে ২৬ রান করে শেষ পর্যন্ত নাহিদের শিকার হন। তখন ৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে জিম্বাবুয়ে।

তবে নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান ৬৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ এনে দেন। ২৭ রান করা এনগারাভাকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। সেটিই ছিল ইনিংসে তার ষষ্ঠ উইকেট এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। ১৩ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটি তার তৃতীয় পাঁচ বা তার বেশি উইকেট শিকার। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে ওয়ানডেতে সর্বাধিক পাঁচ উইকেট নেওয়ার তালিকায় এখন তার ওপরে আছেন কেবল মোস্তাফিজুর রহমান। তবে নাহিদের দুর্দান্ত বোলিংও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতার সামনে ম্লান হয়ে যায়।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।