বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

সেপ্টেম্বরে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মির্জা ফখরুলের নাম এগিয়ে রয়েছে

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | জাতীয়

Administrator

সেপ্টেম্বরে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, মির্জা ফখরুলের নাম এগিয়ে রয়েছে

বিএনপি এবং সরকার সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রধান প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি এবং সরকার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী নয়। আগামী সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের যে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, সেখানেই এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনটি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদের যোগ্য প্রার্থী দলের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তি হবেন নাকি বাহ্যিক কেউ হবেন, এই সিদ্ধান্ত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। বর্তমানে নেতৃত্বের বিভিন্ন স্তর থেকে একাধিক নামের কথা আলোচনা শোনা যাচ্ছে।

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়াও এই পরিকল্পনার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে সরকারের শীর্ষস্থানীয় অবহিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আগামী সংসদ অধিবেশনে সরকার সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী প্রস্তাব আনতে প্রস্তুত, যেখানে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার বিতরণ পুনর্নির্ধারণ এবং জুলাই ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়গুলি সংযুক্ত থাকতে পারে। যে পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাগত পরিবর্তন স্পষ্ট না হয়, সেই পর্যন্ত নতুন নেতা নির্বাচন স্থগিত রাখা যৌক্তিক, এমন মতামত রয়েছে বিএনপির নীতি নির্ধারণকারীদের মধ্যে।

পদটির দায়িত্ব ও ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে যে ব্যক্তিত্ব নির্বাচনের মানদণ্ড বদলে যাবে, এটি বিএনপির চিন্তাশীল নেতাদের অনেকেই অনুভব করছেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটি যদি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক থেকে আরও কার্যকর হয়, তাহলে প্রার্থী নির্বাচনে নতুন বিবেচনা প্রয়োজন হবে।

দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সহকারী মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম সর্বাধিক গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে—এটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। দলের একটি অংশ তাঁর এই পদে উন্নয়নের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে। তবে দল এবং সরকারের শীর্ষ পরিমণ্ডলে বিকল্প প্রার্থীদের তালিকাও বজায় রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার যখন মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব থেকে মুক্ত হন, তখন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানের নির্দেশ অনুযায়ী এই পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকে নিরানব্বই দিনের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন অপরিহার্য। বিএনপি সংসদে সম্পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধারণ করছে, তাই দলের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত।

বগুড়ায় গত শনিবার সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, দলীয় নাকি বহিরাগত প্রার্থী এই পছন্দ নির্ধারণ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংবিধান ও আইন মেনে হবে। প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভিমত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে মূল ভূমিকা রাখবে বলে অবহিত সূত্রগুলো স্পষ্ট করে দিয়েছে। তবে এমন উচ্চ সাংবিধানিক পদের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে। বিএনপির প্রবীণ নেতারা এখনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে জনসম্মুখে মতামত প্রকাশ থেকে দূরে রয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলামকে নির্বাচনের সুবিধা অনেকগুলি। দীর্ঘকাল ধরে বিএনপির মহাসচিবের আসন সামলানো, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নিষ্ঠুর পরিস্থিতিতে দলকে সংগঠিত রাখা, তাঁর রাজনৈতিক গুণমান এবং দলের বাইরেও তাঁর গৃহণযোগ্যতা—এগুলো উল্লেখযোগ্য যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইনজীবী অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং অন্যান্য মহল ইতিমধ্যে তাঁকে এই পদের সেরা পছন্দ হিসেবে সর্বজনীন মতামত ব্যক্ত করেছেন।

যদি মির্জা ফখরুল এই পদে বসেন, তবে সরকার এবং দলে একাধিক পরিবর্তন আবশ্যক হয়ে উঠবে। তাঁর বর্তমান মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতে হবে এবং বিএনপির মহাসচিব পদে নতুন ব্যক্তি নিয়োগ দিতে হবে। সংবিধানের শর্ত অনুযায়ী তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনী আসন খালি হয়ে যাবে। সরকারের প্রাথমিক পর্যায়েই এই সব পুনর্সংস্থাপন সম্পন্ন করা হবে কিনা—এই বিবেচনাটিও বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে।

দল এবং সরকারের অন্যান্য প্রস্তাবিত নাম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান এবং নজরুল ইসলাম খান অন্তর্ভুক্ত। বয়স, শারীরিক সামর্থ্য এবং সরকার এবং দলে তাঁদের বর্তমান প্রয়োজনীয়তা—এই মানদণ্ডে সম্ভাব্যদের পরিসর সংকুচিত হয়েছে। রাষ্ট্রপতির কর্তব্য পালনকারী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম বিএনপির নির্দিষ্ট স্তরে আলোচনার বিষয় হচ্ছে।

অদলীয় কোনো ব্যক্তিত্বকে এই পদে আনার বিকল্পটি সম্পূর্ণরূপে খারিজ করা হয়নি। এই দিক থেকে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নাম এসেছে। পূর্বে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির বিষয়েও কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু সরকারের মূল ব্যক্তিদের মতে, নাসিমুল গণির জন্য এই পদ এখন সম্ভাবনার বাইরে চলে গেছে। এই অবস্থায়, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা অধিক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

আইন মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গত শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পৃথক সংসদীয় অধিবেশন আহ্বান করার কোনো প্রয়োজন নেই। সংসদের সর্বশেষ বৈঠন পনের জুলাই শেষ হয়েছিল। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ষাট দিনের মধ্যে পরবর্তী বৈঠন আয়োজন করতে হবে। সরকারের প্রত্যাশা হল সেই অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংসদীয় সদস্যদের চূড়ান্ত নাম তালিকা প্রস্তুত করার পর নির্বাচনের বিস্তারিত সূচী জারি করা হবে। যদি একাধিক প্রার্থী থাকেন, তবে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ভোটাভোটির আয়োজন করা হবে। একজন মাত্র কার্যকর প্রার্থী থাকলে, তাঁকে বিনা প্রতিযোগিতায় রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করা হবে।

সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সেপ্টেম্বরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ। পক্ষপাতহীন প্রার্থী নির্বাচন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলামের নামই আপাতত প্রধান। দলের বাইরে থেকে কাউকে বেছে নেওয়া হলে, সাবেক প্রধান বিচারপতি অথবা সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো গৃহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য সকলের দৃষ্টি এখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার দিকে নিবদ্ধ।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।