শিক্ষার্থী আন্দোলনে মোদি সরকারের নীতি পরিবর্তন, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কি হবে?
Administrator
ভারতে মেডিকেল পরীক্ষা ফাঁসির বিরুদ্ধে ছাত্র-অভ্যুত্থান শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করে। এই ঘটনা মোদি সরকারের অপরাজেয় ভাবমূর্তিতে প্রথম ফাটল ধরিয়েছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে কিনা তা অনিশ্চিত।
নয় বছরেরও বেশি সময় জুড়ে ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদি বিবেচিত হয়েছেন একটি অপরাজেয় শক্তি হিসেবে। মোদি প্রশাসনের অধীনে দেশটিতে বিরোধিতা দমন করা হয়েছে, জনসংযোগ নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এবং সমালোচনার অবকাশ সংকুচিত করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এই বছর প্রথমবারের মতো, মাত্র সাত দিনের ছাত্র-অভ্যুত্থান সেই সরকারকে নিজের অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য করেছে।
মেডিকেল প্রবেশ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসি এবং প্রশাসনের জবাবদিহির দাবিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থী নয়াদিল্লির রাজপথে আসেন। এই গণ-আন্দোলনে জেন-জি প্রজন্মের অগ্রণী ভূমিকা ছিল, যারা সংগঠিত হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টি নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলেন শিক্ষা বিভাগের প্রধান ধর্মেন্দ্র প্রধান, যার দায়িত্বকালে এই কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়। ক্রমবর্ধমান জনপ্রতিরোধের মুখে গত শনিবার তিনি পদ ছেড়ে যান।
বিশৃঙ্খলা সামলানোর লক্ষ্যে ভারত সরকার ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রালয়ে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা এই সমাধান প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার সম্পূর্ণ পদত্যাগের দাবিতে অটুট থাকেন, যার ফলশ্রুতিতে সরকার তাকে সব দায়িত্ব থেকে মুক্ত করতে বাধ্য হয়।
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপি সরকার বহু আন্দোলনের মুখোমুখি হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব আইন বিতর্কসহ আগের প্রতিবাদগুলো ছিল মূলত আদর্শবাদী, যা সরকারকে তার বার্তা প্রচারের সুযোগ দিয়েছিল। এখানে ভিন্নতা হল এই আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক বিফলতার বিরুদ্ধে ছিল এবং সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত, যার মোকাবেলায় শাসকরা হিমশিম খেয়েছেন। এই ঘটনা মোদিকে যে অটুট নেতৃত্বের ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, তার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে।
বিচারাধীন শিক্ষার্থীদের মুক্তির নির্দেশ জারি করেছেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। গত মঙ্গলবার তারা নিষেধাজ্ঞা দেন যে এই ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে কোনো বলপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি পুলিশের অপ্রয়োজনীয় বাহিনী প্রয়োগ এবং ছাত্রদের প্রতিরোধ—উভয় বিষয়ের তদন্তে একটি সমিতি গঠনের নির্দেশ দিয়ে কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট প্রদেশগুলিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে ছাত্রনেতারা আপাতত আন্দোলন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আন্দোলনের সংগঠক অভিজিৎ দীপক পরিষ্কার জানিয়েছেন এটি চূড়ান্ত নয় এবং অধিকার আদায়ের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। এখন মূল প্রশ্ন—তরুণদের এই উদ্যোগ ভারতীয় রাজনীতিতে গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রাখবে কিনা তা দেখার অপেক্ষায়।
আন্দোলনের ঝড় প্রশমিত হলেও বিজেপি পক্ষ এর প্রভাব সম্পূর্ণ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-আন্দোলনকারীদের ভাষা নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পড়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। সংগঠনের সদস্যদের 'নর্দমার প্রজন্ম' ও 'তেলাপোকা' আখ্যা দিয়ে কঙ্গনা বলেছেন ছাত্রদের সোশ্যাল মিডিয়া উপস্থাপনা দেখে তার বমিভাব হচ্ছে। এই বিবৃতি ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।