শবে বরাতে হালুয়া-রুটির ঐতিহ্য: নেপথ্যের কারণ কী?
শবে বরাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ও বাংলাদেশে হালুয়া-রুটির ঐতিহ্যবাহী প্রচলনের পেছনের ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ইসলামি ঐতিহ্যে শবে বরাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি রজনী। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এই রাতে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া, ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনার সুযোগ থাকে। সৃষ্টিকূলের ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসেবেও এটি পরিচিত। বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা গভীর ভক্তি ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন।
শাবান মাসের ১৪ তারিখের পরবর্তী রাতই শবে বরাত। ফারসি শব্দ 'শব' (রাত) ও 'বরাত' (মুক্তি) থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ মুক্তির রজনী। আরবিতে একে 'লাইলাতুল বরাত' বা 'নিসফ শাবান' বলা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এই নামেই রাতটি সমাদৃত।
বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে শবে বরাতের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, এই রাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে এসে মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এই রাতে নামাজ ও দিনের বেলায় রোজার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আল্লাহ মানুষের রিজিক, সুস্থতা ও বিপদমুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। তবে মুশরিক, জাদুকর, মা-বাবার অবাধ্য ও হত্যাকারীরা এই ক্ষমার আওতাভুক্ত নয়।
বাংলাদেশে শবে বরাত উপলক্ষে ঘরে ঘরে হালুয়া-রুটি তৈরির বিশেষ চল রয়েছে। এই খাবার প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মাঝে বিতরণ করা হয়। এটি কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, বরং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ। ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবী আমলে এবং পরবর্তীকালে সরকারি ছুটির কারণে শবে বরাতের উৎসবের আমেজ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া প্রিয় নবী (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন বলে তাঁর অনুসারীদের মধ্যে মিষ্টিমুখের এই রীতিটি কালক্রমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।