শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

লক্ষ লক্ষ আবেদন এক চাকরির জন্য, বেকারত্ব সমাধানে সৃজনশীল উদ্যোগ

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 2 সপ্তাহ আগে | রাজনীতি

Administrator

লক্ষ লক্ষ আবেদন এক চাকরির জন্য, বেকারত্ব সমাধানে সৃজনশীল উদ্যোগ

চার কোটি শিক্ষিত বেকার এবং প্রতিটি চাকরিতে পাঁচ-ছয় লাখ আবেদনকারী - এ সংকট সমাধানে সরকার সৃজনশীল অর্থনীতি ও কৃষি উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতে, দেশে শিক্ষিত বেকার ব্যক্তির সংখ্যা চার কোটির কাছাকাছি। এই বিশাল সংখ্যক বেকারের মধ্যে প্রতিটি চাকরির পদের জন্য বর্তমানে পাঁচ থেকে ছয় লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ছে। রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীন শিক্ষার্থী বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এই তথ্যগুলো শেয়ার করেন।

কর্মসংস্থানের সুযোগের তুলনায় চাকরির আবেদনকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় বেকারত্বের সমস্যা এক রাতে সমাধান করা সম্ভব নয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার 'সৃজনশীল অর্থনীতি' প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী অফিস সহকারীর মতো পদেও হাজার হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করছে, যা প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর জন্য একটি কঠোর চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

মির্জা ফখরুল জানান, সৃজনশীল অর্থনীতির মাধ্যমে কামার, কুমার, তাঁতি, শিল্পী এবং খেলোয়াড়ের মতো বিভিন্ন পেশায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে। একই সাথে দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বিদেশে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করছে সরকার।

কৃষি খাতের উন্নয়ন সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলকে 'অ্যাগ্রিকালচার হাব' হিসেবে ঘোষণা করেছে। তিনি ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কেও উল্লেখ করেন এবং বলেন যে রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষ ও দেশের কল্যাণকর।

মির্জা ফখরুল দাবি করেন যে গত ১৭ বছরে দেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং বর্তমান সরকার সেগুলোর পুনর্নির্মাণে নিয়োজিত রয়েছে। এই পুনর্গঠনের কাজ সহজসাধ্য নয়; এর জন্য প্রয়োজন গভীর আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই এই উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বিশেষ অতিথির আসন থেকে বক্তৃতা করেন। তিনি জানান যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদমুক্তির ব্যবস্থা করেছে। পাশাপাশি সারাদেশে 'কৃষক কার্ড' চালু করা হয়েছে।

খাদ্যে আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, পঁচনশীল দ্রব্যসামগ্রীর সংরক্ষণ, সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তা এবং শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানানো হয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে ভর্তি হওয়া লেভেল-১, সেমিস্টার-১ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আবদুল লতিফ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসন ও গবেষণা সুবিধা সম্প্রসারণে সরকারের সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে আরও যারা বক্তব্য দেন তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশার, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধি সানজিদা ইসলাম এবং মাদারীপুর-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান। নবীন শিক্ষার্থীরাও এই অনুষ্ঠানে তাদের মতামত ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।