রাঙামাটির সড়ক সুরক্ষায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ
২০১৭ ও ২০১৮ সালের ভয়াবহ পাহাড় ধসের পর রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল ও টেকসই করতে ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙামাটিতে ৫ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের মৃত্যু হয়, যা চট্টগ্রামের ইতিহাসের অন্যতম মর্মান্তিক ঘটনা। পরবর্তীকালে ২০১৮ সালের ১২ জুন নানিয়ারচরে আবারও পাহাড় ধসে ১১ জন প্রাণ হারান, যার ফলে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। এই বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি রাস্তাগুলোকে সুরক্ষিত ও টেকসই করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৩৫০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
পরিবহন ও হোটেল ব্যবসায়ী নেতা মঈন উদ্দিন সেলিমের মতে, পর্যটন জেলা হিসেবে রাঙামাটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য উন্নত সড়ক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ককে রাউজান থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান, যা এই অঞ্চলের যোগাযোগে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় সড়ক উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলো ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। উপজেলাগুলোর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো টেকসই করা হলে স্থানীয় কৃষি ও অন্যান্য পণ্য সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া সহজ হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান জানান, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ১৬৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-বান্দরবান, বাঙ্গালহালিয়া-রাজস্থলী এবং বগাছড়ি-নানিয়ারচর-লংগদু সড়ক অন্তর্ভুক্ত। এসব স্থানে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ এবং পুরোনো স্টিল ব্রিজ ভেঙে আধুনিক গার্ডার ব্রিজ স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।