যশোরের সবজি চারার গ্রামে ১৫ কোটির বাণিজ্য
যশোরের আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রামে দেড় শতাধিক কৃষক সবজি চারা উৎপাদন করে প্রতি মৌসুমে ১৫ কোটি টাকা আয় করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতির বড় চালিকাশক্তি।
যশোর সদর উপজেলার আব্দুলপুর ও বাগডাঙ্গা গ্রাম এখন সবজি চারা উৎপাদনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠেছে। এই দুই গ্রামের দেড় শতাধিক কৃষক মৌসুমি সবজি চারা বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আয় করছেন। তাদের উৎপাদিত ১২ কোটি চারা এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় সমাদৃত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর-চৌগাছা সড়কের পাশে আব্দুলপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় পলিথিনের ছাউনিতে ঢাকা সারি সারি বীজতলা। তীব্র কুয়াশা থেকে চারা রক্ষা করতে কৃষকরা এই বিশেষ পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা প্রতি হাজার যথাক্রমে ১৫০০ ও ১১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত কৃষকরা মানসম্মত চারার খোঁজে এখন এই গ্রাম দুটিতে ভিড় করছেন।
স্থানীয় চাষিদের তথ্যমতে, ৪০ বিঘা জমিতে প্রায় ১২ কোটি চারা উৎপাদিত হয়। জুলাই মাসের শুরুতে বীজ বপন শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে এই বাণিজ্য। মৌসুমের শুরুতে প্রতি হাজার চারা দেড় থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হলেও পরে দাম কিছুটা কমে। এভাবে কয়েক ধাপে বিক্রি শেষে মোট ১৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, এখান থেকে মানসম্পন্ন চারা পাওয়া যায় এবং ফলনও বেশ ভালো হয়, তাই ঝুঁকি কম থাকে। কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, দেড় বিঘা জমিতে চারা উৎপাদন করে তার খরচ বাদে ভালো মুনাফা হচ্ছে। এছাড়া দবির হোসেন নামের এক প্রবীণ কৃষক জানান, চার দশক আগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন গ্রামের অনেক মানুষের আয়ের প্রধান উৎস।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, এই অঞ্চলের সবজি চারা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিয়ে আসছে। কৃষকদের এই সাফল্যকে আরও এগিয়ে নিতে মার্কেট লিঙ্কেজ তৈরিতেও কাজ করছে অধিদপ্তর।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।