ফিফার নজিরবিহীন পিছুটান: কেন প্রত্যাহার করতে হলো বিতর্কিত প্রকল্প
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' নামক প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয়েছে সংস্থাটিকে। খোদ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে এই পরিস্থিতির দায় নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন বিতর্কিত পদক্ষেপ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে।
সাধারণত ফিফা তার কঠোর নিয়মনীতির জন্য পরিচিত। সদস্য দেশগুলোর ফুটবল ফেডারেশনে সরকারি হস্তক্ষেপের দায়ে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও নেপালের মতো দেশ অতীতে ফিফার নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতার চেয়েও ফিফার সিদ্ধান্ত অনেক সময় বড় হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু এবার সেই শক্তিশালী ফিফাকেই চাপের মুখে পিছু হটতে হলো।
মূলত 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতার ভাইয়ের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়।
এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। এমনকি ফিফার পাঁচ সহসভাপতি এবং ফুটবল উন্নয়ন প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গারও এই উদ্যোগ সম্পর্কে অন্ধকারে ছিলেন বলে জানা গেছে। উয়েফার সঙ্গে ফিফার সম্পর্কের টানাপোড়েন এই বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ইনফান্তিনো জরুরি সভা ডাকেন এবং প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দেন। ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্য দেশগুলোর সাথে আলোচনার আগেই তথ্য ফাঁস হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে সংশয় তৈরি করেছে। বিশ্বকাপে ইরান ইস্যু, রেফারি বিতর্ক কিংবা বালোগানের লাল কার্ডের মতো সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফার গ্রহণযোগ্যতাকে আগেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।