ডলার সংকটে ফের ২০ বিলিয়নের নিচে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কাঙ্ক্ষিত না হওয়ায় এবং বাজারে ডলারের জোগান দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ কমে ১৯.৯৪ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।
ডলার সংকট মোকাবিলায় নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের গতি শ্লথ থাকা এবং আমদানিসহ বিভিন্ন দায় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত ডলার বিক্রির ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ২০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিপিএম-৬ অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১ ফেব্রুয়ারির সাপ্তাহিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ ১ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। ৩ জানুয়ারি যেখানে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৭ বিলিয়ন ডলার, তা ৩১ জানুয়ারি শেষে ২৫ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। আইএমএফের শর্তানুযায়ী বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভের এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরু থেকে রিজার্ভের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের শুরুতে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করছে। চলতি অর্থবছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বাজারে ছেড়েছে। বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও, পরবর্তীতে নানা প্রতিকূলতায় তা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।