টক কুল চাষে ভাগ্য বদল মেম্বার তৌহিদুল ইসলামের
যশোর সদর উপজেলার মেম্বার তৌহিদুল ইসলাম টক কুল চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন। অল্প খরচে অধিক মুনাফা হওয়ায় এখন তিনি চার বিঘা জমিতে কুল চাষ করছেন, যা দেখে স্থানীয়রাও উৎসাহিত হচ্ছেন।
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার তৌহিদুল ইসলাম বর্তমানে ‘টক কুল’ চাষে দারুণ সফল। ছাতিয়ানতলার নিজস্ব জমিতে উৎপাদিত এই কুল এখন ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। মাত্র ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ে এক বিঘা জমিতে কুল চাষ করে তিনি দেড় লক্ষাধিক টাকার ফলন পাচ্ছেন। বর্তমানে চার বিঘা জমিতে এই চাষ সম্প্রসারণ করেছেন তিনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কুল বাগানের পরিচর্যাতেই তার দিন কাটে।
ছাতিয়ানতলা গ্রামের তরফদার পাড়ার বাসিন্দা তৌহিদুল ইসলাম ২০১১ সালে প্রথমবার মেম্বার নির্বাচিত হন। মাঝে একবার বিরতি থাকলেও ২০২২ সালে তিনি পুনরায় জনগণের রায়ে মেম্বার নির্বাচিত হন। সেবার পাশাপাশি নতুন কিছু করার লক্ষ্য থেকে তিনি কুল চাষে আগ্রহী হন। এক বিঘা জমি দিয়ে শুরু করা সেই উদ্যোগ আজ তাকে বাণিজ্যিক সাফল্যের মুখ দেখিয়েছে।
তৌহিদুল ইসলাম জানান, চারা রোপণ থেকে শুরু করে সার, সেচ ও কীটনাশকসহ বিঘাপ্রতি খরচ হয় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা, যার বিপরীতে দেড় লাখ টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বাগান থেকে কুল তোলা হচ্ছে এবং পাইকাররা জমি থেকেই তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার এই সফলতায় অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় অনেক উদ্যোক্তা কুল চাষে এগিয়ে আসছেন এবং তৌহিদুল ইসলাম তাদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন।
এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান আলী জানান, উচ্চ ফলনশীল টক কুল চাষে খরচ কম এবং মুনাফা বেশি। মেম্বার তৌহিদুল ইসলাম এই চাষে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তাতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।