বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক, কোন পথে বাংলাদেশের রাজনীতি?

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 22 ঘন্টা আগে | রাজনীতি
জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্ক, কোন পথে বাংলাদেশের রাজনীতি?

জুলাই অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার দাবি করে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নতুন করে অভ্যুত্থানের হুমকি ও সাংবিধানিক সংস্কারের চাপ বাংলাদেশের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গভীর অস্থিরতা ও বৈপরীত্য বিরাজ করছে। যে গণজাগরণ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, আজ সেই আন্দোলনের উত্তরাধিকার নিয়েই রাজনৈতিক মেরুকরণ ও বিরোধ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কিছু রাজনৈতিক পক্ষ নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলার জন্য নতুন করে অভ্যুত্থানের হুমকি দিচ্ছে, যা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে আল্টিমেটাম দিচ্ছেন। অথচ এই সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো জাতীয় ঐকমত্য নেই। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজপথের চাপ বা ভয় দেখিয়ে সাংবিধানিক পরিবর্তনের সংস্কৃতি গণতন্ত্রের জন্য শুভ নয়।

জুলাই অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা দলের একচ্ছত্র সম্পত্তি নয়। অথচ বর্তমানে এমন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যেখানে নিজেদের জুলাইয়ের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জাহির করার চেষ্টা চলছে। এটি আন্দোলনের মূল চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বারবার আন্দোলনের হুমকির বিষয়টি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ড. আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দলকে যুক্ত করা হয়নি, ফলে জুলাই জাতীয় সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অনেক নেতা এই সনদের নানা সীমাবদ্ধতা ও এর প্রণয়ন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন।

গণতন্ত্রে মতপার্থক্য নিরসনের পথ হলো সংসদীয় বিতর্ক, আলোচনা এবং নির্বাচন। রাজপথের শক্তিকে ব্যবহার করে সরকারকে জিম্মি করা বা আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত শিক্ষা হলো জনগণের হাতে ক্ষমতার প্রকৃত মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, দলীয় স্বার্থসিদ্ধি নয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে সব পক্ষকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।