চাহিদা থাকলেও দামের কারণে গুদামে পড়ে থাকা ৫৯ কোটি টাকার চিনি
Administrator
জিল বাংলা চিনিকলের ৪,৭০০ টন চিনি গুদামে পড়ে আছে কারণ সরকার নির্ধারিত দাম বাজার হারে তুলনায় বেশি, যদিও ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা এর উচ্চ মান স্বীকার করেন।
দেওয়ানগঞ্জের জিল বাংলা চিনিকল একটি শক্তিশালী ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান যা উচ্চমানের চিনি উৎপাদন করে। অন্যান্য চিনিকলের তুলনায় এই মিলের চিনি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত গুণমান বজায় রাখে। তবে বর্তমানে এই মিলে চার হাজার ৭০০ টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় রয়েছে, যার মূল্য আনুমানিক ৫৯ কোটি টাকা।
মূল্য নির্ধারণে রয়েছে একটি বড় ব্যবধান। সরকার নির্ধারিত দেশীয় চিনির দাম প্রতি কেজিতে ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাজারে পরিশোধিত চিনি প্রতি কেজিতে মাত্র ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। এই ১৫ থেকে ২০ টাকার বৈষম্য ডিলার ও ব্যবসায়ীদের জিল বাংলার চিনি সংগ্রহে অনাগ্রহী করে তুলেছে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের মাধ্যমে বিতরণকৃত এই চিনি বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না।
চলমান ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে জিল বাংলা চিনিকল ৮৪ হাজার ৯০০ টন আখ প্রক্রিয়া করে পাঁচ হাজার ৩৪৮ টন চিনি উৎপাদন করেছে। মিলের লক্ষ্য ছিল সাত হাজার ২০০ টন আখ মাড়াই এবং চার হাজার ৯০০ টন চিনি উৎপাদন। আগামী ২০২৬-২৭ মাড়াই মৌসুমে আখ চাষের সম্প্রসারণের কারণে মাঠে মাড়াইযোগ্য আখ রয়েছে ৫০ হাজার ১৫ একর, যা থেকে আশা করা হচ্ছে সাত হাজার ৫০০ টন আখ এবং পাঁচ হাজার ৩৯০ টন চিনি।
ভোক্তারা জানান যে জিল বাংলায় উৎপাদিত চিনি অন্যান্য পরিশোধিত চিনির চেয়ে স্পষ্টতই উন্নত। এই চিনির অপ্রাপ্যতার কারণে তারা বাজারে কম মানের চিনি ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাহাদুরাবাদ গ্রামের ফয়জুর রহমান উল্লেখ করেন যে জিল বাংলার চিনি সুস্বাদু এবং চমৎকার গুণমানের, তবে নিয়মিত বাজারে পাওয়া যায় না। তিনি বিশ্বাস করেন ভোক্তাদের চাহিদা পূরণের জন্য এই চিনি নিয়মিত বাজারে আসা উচিত।
দেওয়ানগঞ্জ বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী লিপন মিয়া নিশ্চিত করেন যে বাজারে জিল বাংলার চিনির প্রকৃত চাহিদা বেশি। ক্রেতারা এই পণ্য খুঁজে আসেন। জিল বাংলার চিনির হালকা হলুদ রঙ এটিকে সাদা পরিশোধিত চিনি থেকে আলাদা করে তোলে, যা ক্রেতারা সহজেই চিনতে পারেন। কিন্তু সরবরাহের নিয়মিততার অভাব গ্রাহকদের বিকল্প পণ্য বেছে নিতে বাধ্য করছে।
জিল বাংলা চিনিকলের উপমহাব্যবস্থাপক মো. আলাউদ্দিন জানান যে এই চিনির বাজার চাহিদা প্রকৃতপক্ষে ব্যাপক। তবে সাশ্রয়ী পরিশোধিত চিনির কারণে খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের নিয়োগকৃত ডিলারগণ এই উচ্চমূল্যের পণ্য সরবরাহে সক্রিয় নন।
মিলের ইনচার্জ (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ফেরদৌসুল আলম স্বীকার করেন যে বাজারে চাহিদা অবশ্যই আছে কিন্তু মূল্য সমস্যার কারণে গত মৌসুমের ৪,৭০০ টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। তিনি জানান এই বিক্রয় সমস্যা সমাধানের জন্য খাদ্য ও চিনিশিল্প করপোরেশনের কাছে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।