এক শিশুর দ্রুত সতর্কতায় সাতজনের জীবন বেঁচে গেল
Administrator
হায়দরাবাদে একটি আবাসিক ভবনের শোবার ঘর থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি শিশুর সতর্কতা সাতজন জীবন বাঁচিয়েছে। বিদ্যুৎ সংক্ষিপ্তকরণ থেকে উদ্ভূত এই আগুন চারটি দমকল ইউনিট দ্বারা এক ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল।
সন্ধ্যার খাবারের সময় পরিবারের একটি শিশু হঠাৎ ঘরে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে অবিলম্বে চিৎকার করে সকলকে সাবধান করে দেয়। শিশুর এই তাৎক্ষণিক সতর্কতার ফলে তিন শিশুসহ সপ্তজন সদস্য এক বিভীষিকাময় অগ্নিকাণ্ড থেকে অলৌকিকভাবে পরিত্রাণ পান।
এই ঘটনা ঘটে ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত মেহদিপ্যাটনামের বিজয়নগর কলোনির এফএইচএএএস রেসিডেন্সির পঞ্চম তলায় গত শনিবার রাত্রিকালে।
ফায়ার সার্ভিস বিভাগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি শোবার ঘরের ইলেকট্রিক্যাল সুইচবোর্ড থেকে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূচনা হয়েছিল। আগুন দ্রুত ফার্নিচার ও অন্যান্য সামগ্রীতে ছড়িয়ে পড়ে সম্পূর্ণ কক্ষকে গ্রাস করে নেয়। তবে আগুন মারাত্মক আকার ধারণ করার পূর্বেই পরিবারের সকল সদস্য তৎক্ষণাৎ আবাসন ত্যাগ করে নিরাপদে বাইরে চলে আসেন। এই পাঁচতলা বহুতলবিশিষ্ট অট্টালিকা, যা চার-পাঁচ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল, এতে প্রায় পঞ্চাশজন পরিবার বাস করেন।
হায়দরাবাদের ডিস্ট্রিক্ট ফায়ার অফিসার টি ভেঙ্কান্না স্বীকার করেছেন যে, দমকল বিভাগের দল উপস্থিত হওয়ার আগেই সপ্তজন আবাসী নিরাপদে ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল। অগ্নিনির্বাপক দল দক্ষতার সাথে আগুনকে শুধুমাত্র সংক্রান্ত ফ্ল্যাটের মধ্যেই আটকে রাখতে সফল হয়েছিল, ফলে প্রতিবেশী বাড়িগুলিতে বিস্তৃত হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
আক্রান্ত পরিবার জানান যে, আগুনে তাদের একটি শয়নকক্ষ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর মধ্যের সমস্ত আসবাবপত্র, দূরদর্শন যন্ত্র, পোশাক রাখার আলমারি, রান্নাঘরের সামগ্রী, জরুরি কাগজপত্র এবং প্রায় পনের ভরি স্বর্ণ ও অলংকার সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়েছে। অবশ্য সম্পত্তির ক্ষতির মোট মূল্য এখনও পরিমাপ করা হয়নি।
সংকেত পাওয়ার পর আম্বারপেট, অ্যাসেম্বলি এবং গাওলিগুড়া স্টেশন থেকে মোট চারটি দমকল ইউনিট জরুরিভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও, দমকল কর্মীরা প্রায় একঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুনকে সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দমকল কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন যে, এই ঘটনা বিদ্যুৎ লাইনের শর্ট সার্কিটজনিত অগ্নিকাণ্ড ছিল এবং এতে কোনো মৃত্যু বা আহতকরণ ঘটেনি।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।