ইউরোপে বন্দি হলে বিশেষ বাহিনী দিয়ে উদ্ধার করব: নেতানিয়াহু
Administrator
সামরিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইউরোপে গ্রেপ্তার হলে ইসরায়েলি কমান্ডো বাহিনী তার উদ্ধার করবে। তার এই মন্তব্য এসেছে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পটভূমিতে।
পাঁচ বছরের সামরিক দায়িত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় কোনো দেশে যদি তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী তাঁর মুক্তির জন্য একটি অপারেশন সম্পাদন করবে। এই কথা তিনি জানিয়েছেন ফক্স নিউজের সাথে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, 'আমি এই বাহিনীতে পাঁচ বছর কাজ করেছি। এখন আসুন, তাদের একটি নতুন মিশন দিয়ে দিই।' তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বিদেশে গ্রেপ্তারির অনুমান করলেও তিনি উদ্ধার পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত।
এই বিবৃতি আসার পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি পটভূমি। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় পরিচালিত কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও নিউইয়র্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইঙ্গিত করেছিলেন যে নেতানিয়াহু সেখানে গেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
আন্তর্জাতিক আইনের দিক থেকে, রোম সংবিধির স্বাক্ষরকারী দেশগুলো আইসিসির পরোয়ানা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকে। তবে এই আইনি বাধ্যবাধকতা প্রায়োগিক করার বিষয়ে বৈশ্বিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক এবং আইনি বিতর্ক চলমান রয়েছে।
যদিও নেতানিয়াহু এমন একটি মুক্তি অপারেশন বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেননি। বাস্তবে, কোনো দেশের অনুমতি ছাড়াই অন্য দেশের আঞ্চলিক সীমানায় সামরিক অভিযান চালানো হলে তা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলে বড় ধরনের কূটনৈতিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্র ইতিমধ্যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে নেতানিয়াহু তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে তারা আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহুর বৈদেশিক ভ্রমণ সূচি এখন অত্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। যে দেশগুলোতে পরোয়ানা বাস্তবায়নের ঝুঁকি রয়েছে সেগুলো এড়িয়ে চলতে তাঁকে অত্যন্ত সাবধানে গন্তব্য নির্বাচন করতে হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি নির্ধারিত সফর থেকে সরে যাওয়ার বিবেচনা করছেন।
গাজায় জাতিগত নিধনের অভিযোগ নিয়ে নেতানিয়াহু বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন রয়েছেন। এই সময়ে আইসিসির পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন দেশ এতে কীভাবে সাড়া দেবে তা নিয়ে জাতিসংঘীয় পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ এই বক্তব্য সেই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।