হবিগঞ্জে হামলায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ছাত্র আলিফ, কঠিন পারিবারিক পটভূমিতে পড়াশোনা করতেন
Administrator
হবিগঞ্জে বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ছাত্রনেতা আলিফ চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। কঠিন আর্থিক পরিস্থিতিতে পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে পরিবারকে সহায়তা করে আসছিলেন তিনি।
গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চোখে গুরুতর আঘাত পান।
আলিফ ছাত্রশক্তির হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক। তিনি হোমল্যান্ড স্কুল ও কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে পরিবারের খরচ মেটান। এনসিপি নেতাদের মতে, তার বাবা অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চলাফেরায় সক্ষম নন। তার মা প্রতিবন্ধী, দুই বোন বিবাহিত এবং বড় ভাই পরিবারের ব্যয় বহনে সক্ষম নন।
মঙ্গলবারে আহত হওয়ার পর বুধবার আলিফকে আরও ভাল চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে তার বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি বর্তমানে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ সংবাদ সম্মেলনে জানান যে বৃহস্পতিবার সকালে একটি মেডিক্যাল বোর্ড বসেছিল এবং সেই বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার মতে আলিফের বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসবে না এবং ডান চোখেও তিনি ঝাপসা দেখছেন।
আলিফের চিকিৎসায় নিয়োজিত একজন চিকিৎসক গোপনীয়তার শর্তে বলেছেন যে সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাঁ চোখের প্রকৃত অবস্থা চূড়ান্তভাবে বলা যাবে না। তার ভাষ্য, চোখে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন হলে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার সকালে অপারেশনের পর বিকেলে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ, সজীব ভুঁইয়া এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতারা হাসপাতালে আলিফকে দেখতে যান। পরবর্তীতে হাসপাতালের বাইরে তারা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এনসিপি সরকারের কাছে তিনটি প্রধান দাবি উপস্থাপন করেছে। প্রথমত, আলিফের চিকিৎসার খরচ বহন করা এবং তাকে ও তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। দ্বিতীয়ত, হবিগঞ্জের ঘটনায় জড়িত বিএনপি, ছাত্রদল এবং যুবদলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের ব্যবস্থা করা। তৃতীয়ত, এনসিপিসহ গণতান্ত্রিক বিরোধী দলগুলোর বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং তাদের সব কর্মসূচি, বিশেষত জুলাই মাসের পদযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।