বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লুট, বিদেশে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 59 মিনিট আগে | জাতীয়

Administrator

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্প থেকে লুট, বিদেশে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে গত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার হয়েছে, যা উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সংঘটিত হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ পরিমাণ অর্থ বর্তমান দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমতুল্য। প্রভাবশালী ম্যাগাজিন টাইমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার এভাবে দেশ ছেড়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভূমিকায় আসাদুজ্জামান এ মন্তব্য করেন। কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় এ বছরের ২৬ জুলাই সোমবার দুপুরে।

দুর্নীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে আইনমন্ত্রী কংক্রিট উদাহরণ দেন। পিরোজপুরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প শুধুমাত্র সরকারি নথিতে দেখা যায় – বাস্তবে সেখানে কোনো অবকাঠামো নির্মাণ হয়নি। তবুও সম্পূর্ণ তহবিল নিষ্কাশন করা হয়েছে। খুলনায়ও প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ২৮০ কোটি টাকা কাজে লাগানো হয়নি।

উন্নয়ন কর্মসূচির শিরোনাম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় তহবিল গায়েব করা হয়েছে এবং সেগুলো বিদেশে পাঠানো হয়েছে বলে আসাদুজ্জামান উল্লেখ করেন। এই ধরনের অনিয়ম জাতীয় অর্থনীতিকে গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন করেছে এবং সাধারণ জনগণের আস্থা হ্রাস করেছে।

একটি মাত্র প্রকল্পে এ সমস্যা সীমাবদ্ধ নয় – দেশজুড়ে অসংখ্য উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাজেটের অর্থ বিদেশে প্রেরণ করা হয়েছে। বেগুমগঞ্জসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সম্পত্তি অর্জনে কত কোটি টাকা ব্যবহৃত হয়েছে তার নিখুঁত হিসাব এখনও অজানা, তিনি যোগ করেন।

নবীন আইনজীবীদের প্রতি আসাদুজ্জামানের পরামর্শ ছিল যে আইন পেশায় সাফল্যের কোনো দ্রুত পথ নেই। নিরন্তর শিক্ষাগ্রহণ অপরিহার্য। তাদের আর্থিক লাভের চেয়ে সামাজিক সেবা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষায় মনোনিবেশ করতে হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, নিজের রাজনৈতিক দলের সদস্যরা যদি দুর্নীতিতে জড়িত থাকে, তবেও আইনজীবীদের সেই অনিয়মের বিরুদ্ধে কণ্ঠ উঁচিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম নগর কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এম.পি. মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, জেলা ও দায়রা জজ কাজী আবদুল হান্নান, মহানগর দায়রা জজ মো. হাসানুল ইসলাম, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম. মনিরুল হাসান সরকার, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহাগ তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডহক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী।

কর্মসূচির স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন। পরিচালনায় ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।