বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

মার্কিন বুদ্ধিমত্তা সংস্থার তদন্তে ইরানের নির্ভুল হামলায় রাশিয়ার সন্দেহজনক ভূমিকা

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 2 ঘন্টা আগে | বিশ্ব

Administrator

মার্কিন বুদ্ধিমত্তা সংস্থার তদন্তে ইরানের নির্ভুল হামলায় রাশিয়ার সন্দেহজনক ভূমিকা

আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থাগুলি ইরানের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সহায়তা সম্পর্কে তদন্ত করছে, বিশেষত লক্ষ্যভেদের নির্ভুলতা এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তি নিয়ে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

চলতি বছরের মার্চে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএর বহুসংখ্যক গোপন কেন্দ্র লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন প্রয়োগ করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সংযুক্ত সিআইএ অফিস এবং পূর্ব ইরাকের একটি পৃথক গোপন সামরিক স্থান। নিরাপত্তা বিবেচনায় অতিরিক্ত আক্রমিত স্থানসমূহের প্রকৃতি সর্বজনীন করা হয়নি বলে জানা যায়।

এসব আক্রমণের অসাধারণ লক্ষ্যাভেদ এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা পরীক্ষা করে মার্কিন বুদ্ধিমত্তা বিভাগ এখন নিয়োজিত। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থার সাথে যুক্ত চার জন অধিকারী জানান, এই আক্রমণগুলির সাফল্য এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বিশ্লেষণ করলে প্রশ্ন ওঠে যে রাশিয়া কি ইরানকে লক্ষ্য নির্ধারণের বুদ্ধিমত্তা অথবা উন্নত ড্রোন সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। অবশ্য বর্তমান পর্যায়ে এই পরিবেশনার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পৌঁছায়নি গবেষকদের কাছে।

নিরাপত্তার প্রতি সংবেদনশীল থাকায় নাম প্রকাশ না করে এক সূত্র জানায়, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ নোট রয়েছে যাতে আঞ্চলিক সিআইএ সুবিধাগুলিকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার শক্তিশালী ভূমিকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবুও সংস্থা বা নথি প্রস্তুতকারী নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলি আগে থেকে রিপোর্ট করেছিল যে রাশিয়া উপসাগর অঞ্চলে আমেরিকান লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে হামলায় ইরানকে সামরিক সহয়তা প্রদান করতে পারে। তবে সিআইএর এই নির্দিষ্ট গোপন প্রতিষ্ঠানগুলিতে আক্রমণে রাশিয়ার সম্ভাব্য হাত থাকা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের চলমান পরীক্ষা এই প্রথম প্রকাশ্যে আসছে।

সৌদি আরবের হামলার বিবরণ অনুযায়ী, দুজন পশ্চিমা বিশ্লেষক গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন শাহেদ ড্রোনের রুশ-নির্মিত আধুনিক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের মতে প্রথম যানটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল স্থানে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করে। এই ফাঁকের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ড্রোনটি অনুপ্রবেশ করে অভ্যন্তরে বিস্ফোরিত হয়। ওই ঘটনায় জীবন ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার কথিত সহায়তার সূত্র হিসেবে বিশেষজ্ঞরা 'কোমেটা-এম' নামক স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থাকে সনাক্ত করেছেন। এই প্রযুক্তি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করে। বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় অধিক যথাযথ এবং ইলেকট্রনিক বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে নিরস্ত করা কঠিনতর।

গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি আমেরিকান সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা আক্রমণ চালায়, যাতে অন্তত দুই মার্কিন সেনা প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর থেকে লক্ষ্যনির্ধারণে রাশিয়ার সহায়তা সম্পর্কে মার্কিন ও পশ্চিমা নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ গভীর হয়েছে।

এখন পর্যন্ত রাশিয়া ইরানকে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম বা ড্রোন প্রযুক্তি প্রদানের দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। একই সাথে আমেরিকান গোয়েন্দা বিভাগের পরীক্ষাও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরিণামে, সম্প্রতি ঘটিত এই ধরনের আক্রমণে রাশিয়ার প্রকৃত সম্পৃক্ততার প্রশ্ন বর্তমানে তদন্তের অধীনেই থাকছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।