শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বর্ষা ঋতুতে শালবনের অতিথি: দেশি শুমচা

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | জাতীয়

Administrator

বর্ষা ঋতুতে শালবনের অতিথি: দেশি শুমচা

প্রতি বর্ষা মৌসুমে দক্ষিণ এশিয়া থেকে আমাদের শালবনে ফিরে আসে দেশি শুমচা পাখি। এই অতিথি প্রজাতির জীবনচক্র, খাদ্যাভ্যাস এবং বাস্তুতন্ত্রের হুমকি সম্পর্কে জানুন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

মধ্য এপ্রিল নাগাদ ঝাঁকে ঝাঁকে দেশি শুমচা আমাদের দেশের বনাঞ্চলে ফিরে আসে। এই পাখিটি স্থানীয়ভাবে দেশি শুমচা নামে পরিচিত এবং ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান পিটা হিসেবে পরিচিত। ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এটি মাত্র তিন মাসের জন্য আমাদের দেশে আসে। সারা দক্ষিণ এশিয়ায় ছয় জাতের শুমচা রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় পাঁচ জাত, এবং এর মধ্যে তিন জাত সারা বছর এখানে বসবাস করে।

বর্ষাকাল হলো দেশি শুমচার প্রজনন মৌসুম। এ সময় তারা বাসা গড়ে এবং মাত্র তিন সপ্তাহে ডিম থেকে বাচ্চা বের হয়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তাদের বিশাল খাবারের প্রয়োজন হয়। বিশেষত শালবন এই পাখির খাদ্য চাহিদা পূরণের জন্য আদর্শ প্রাকৃতিক স্থান। উত্তর অঞ্চলের বিভিন্ন বাঁশঝাড়েও এই প্রজাতি লালিত হয়। মধ্য আগস্টে এরা পুরো পরিবারসহ আবার তাদের নিজস্ব বাসভূমিতে প্রস্থান করে।

গাজীপুরের ভাওয়াল অঞ্চলের শালবনে এই পাখি পর্যবেক্ষণের জন্য আমি বাংলাদেশ বন্য প্রাণী কেন্দ্রের রেস্টহাউসে থাকার ব্যবস্থা করেছিলাম। এখানকার শালবন এই উদ্দেশ্যে সবচেয়ে উপযুক্ত। সকাল পাঁচটার পর বৃষ্টি বন্ধ হয়েছিল, যদিও আকাশে মেঘ অবশিষ্ট ছিল। প্রতি বর্ষা মৌসুমে দেশের শালবনগুলোতে এই পাখির দেখা পাওয়া যায়, তবে এই ঋতু ছাড়া এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর।

ছয় জুলাই সকাল ছয়টায় বন অধিদপ্তরের পাখি বিশেষজ্ঞ শিবলি সাদিকের সাথে ক্যামেরা নিয়ে বনে প্রবেশ করেছিলাম। তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে এই এলাকায় পাখিটি সহজেই পাওয়া যাবে কারণ তিনি প্রতিদিন সকালে এটি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টার পর সকাল সাড়ে সাতটায় প্রথমবার পাখিটির মধুর ডাক আমাদের কানে পৌঁছায়। মাত্র বিশ মিনিটের মধ্যে এটি সরাসরি আমাদের মাথার ওপর একটি শালগাছে উপস্থিত হয় এবং সুরেলা গান গাইতে শুরু করে। স্পষ্টত এই ডাক তার সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা ছিল।

কয়েকটি ফটোগ্রাফ নেওয়ার পর পাখিটি হঠাৎ নীরব হয়ে যায়। দ্বিনেত্র ব্যবহার করে পুনরায় খোঁজার সময় দেখি যে এটি বনের মাটিতে বসে পোকা-মাকড় ধরে খাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে গাছ থেকে ঝরা পাতা বর্ষায় পচে যায় এবং এই পঁচা পাতার স্তরে নানা ধরনের পোকার সংক্রমণ ঘটে যা এই পাখির প্রধান খাবার। একটি গবেষণা অনুসারে দেশি শুমচার মোট খাবারের ছিয়াশি ভাগই কেঁচো। এ ছাড়া পচা পাতার স্তর বন এবং বৃক্ষ বৃদ্ধির জন্যও অপরিহার্য।

দেশি শুমচার প্রিয় আবাসস্থল বাংলাদেশে এখনো টিকে আছে কিন্তু এর বাস্তুতন্ত্র গুরুতর হুমকিতে পড়েছে। ঝরা পাতা সংগ্রহ করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মানুষ বনে প্রবেশ করে। এই কার্যক্রম বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত করে এবং পোকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। ফলে পোকা-খাদ্য পাখিগুলো তাদের খাবারের সংকটে পড়ছে এবং বন হারাচ্ছে তার উর্বর মাটি, যার ফলে গাছপালা অপুষ্টিতে ভুগছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।