শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

বর্ষার রূপবতী গারো পাহাড়: ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সেরা গন্তব্য

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 58 মিনিট আগে | জাতীয়
বর্ষার রূপবতী গারো পাহাড়: ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সেরা গন্তব্য

বর্ষার বৃষ্টিতে সজীব হয়ে ওঠা শেরপুরের গারো পাহাড় ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। মেঘ, পাহাড় ও সবুজের এই মিতালি নাগরিক ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কার্যকর।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

আকাশের ঘন কালো মেঘ আর ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে পাহাড়ের বুক চিরে এক স্নিগ্ধতা নেমে আসে। বৃষ্টির ধারায় ধুয়েমুছে পাহাড়ি গাছপালা হয়ে ওঠে সজীব ও প্রাণবন্ত। মেঘের আনাগোনা আর পাহাড়ের মিতালিতে তৈরি হয় এক মায়াবী আবেশ। শেরপুরের গারো পাহাড়ের এই রূপ বর্ষাকালে যেন বহুগুণ বেড়ে যায়, যা ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য এক আদর্শ জায়গা।

যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে যারা একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য বর্ষার গারো পাহাড় যেন হাতছানি দেয়। শাল-গজারির বন, পাহাড়ি ঝরনা আর মেঘের লুকোচুরি এই সময় পাহাড়ের সৌন্দর্যকে অনন্য করে তোলে। ঢাকা থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জনপদ মেঘালয় সীমান্তের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে।

বনের গভীরে হাঁটলে শোনা যায় নানা পাখির কলতান আর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ। মাটির সোঁদা গন্ধ আর শীতল বাতাস মনকে নিমেষেই শান্ত করে দেয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ছড়াগুলোতে বৃষ্টির পানিতে প্রাণের সঞ্চার হয়, যা এক নয়নাভিরাম দৃশ্যের অবতারণা করে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্ক, বারোমারী মিশন, ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশ কেন্দ্র বা শ্রীবরদীর রাজার পাহাড়—প্রতিটি জায়গাই বর্ষায় নতুন রূপে সেজে ওঠে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে ঘুরে বেড়ানোর সময় মেঘে ঢাকা দিগন্ত দেখে মনে হবে কোনো জীবন্ত চিত্রকর্মের ভেতর দিয়ে হাঁটছেন।

পর্যটকদের থাকার জন্য গজনীতে ‘বনরাণী’ রিসোর্টসহ শেরপুর শহরে বিভিন্ন হোটেল রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও বিজিবি সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভুঁইয়া। সব মিলিয়ে, বর্ষার গারো পাহাড় আপনার ভ্রমণ তালিকায় এক অবিস্মরণীয় সংযোজন হতে পারে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।