সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: সুষ্ঠু ভোটের প্রত্যাশা এম কে রহমান ও নাহিদ সুলতানা যূথির
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এবার সাদা ও নীল প্যানেলের বাইরে সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন এম কে রহমান ও নাহিদ সুলতানা যূথিসহ বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটের দাবি জানিয়েছেন।
আগামী ৬ ও ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫ সেশনের নির্বাচন। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসায় আইনজীবীদের মধ্যে প্রচারণার আমেজ শুরু হয়েছে। এবারের লড়াইয়ে সরকার সমর্থিত ‘সাদা’ প্যানেল এবং বিএনপি সমর্থিত ‘নীল’ প্যানেলের প্রার্থীরা ছাড়াও সভাপতি ও সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র বেশ কয়েকজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সাদা ও নীল উভয় প্যানেলের সব প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। এর বাইরে সভাপতি পদে এম কে রহমান ও ইউনুছ আলী আকন্দ এবং সম্পাদক পদে নাহিদ সুলতানা যূথি ও ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাইফুল ইসলাম।
সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান সভাপতি পদে লড়ছেন। তার অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে তার পরিচিতি রয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। বারকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বার গঠন করাই আমার লক্ষ্য। আশা করি নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু ভোট উপহার দেবে।’
অন্যদিকে, সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন নাহিদ সুলতানা যূথি। তিনি বারের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী। তার মতে, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচনই এখন সময়ের দাবি। বিশ্লেষকদের মতে, এম কে রহমান ও নাহিদ সুলতানা যূথির মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে থাকায় সাদা প্যানেলের ভোট বিভাজনের একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নীল প্যানেলের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।
নীল প্যানেলের সম্পাদক প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস কাজল নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনকে নজরদারিতে রাখছি। আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান, আপনারা গণতান্ত্রিক চর্চা বজায় রেখে ভোট প্রদান করুন।’ এদিকে, নির্বাচন সাব-কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন দাবি করেছেন, অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একটি নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি আব্দুন নূর দুলাল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। মোট ১৪টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্যানেলের প্রার্থীরাসহ স্বতন্ত্ররা। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ৪ মার্চ প্রার্থী পরিচিতি অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।