মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার, ট্রাইব্যুনাল দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছে
Administrator
দীর্ঘ পলায়নের পর মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দুই দিনের রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক সেনা অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিনের সাথে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংযোগে তিনি জড়িত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত বৃহস্পতিবার মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। এই অবসরপ্রাপ্ত মেজর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মানবতাবিরোধী অপরাধের সেই মামলায় জড়িত, যেখানে মাসুদ উদ্দিন ইতিমধ্যে কারাবন্দি রয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এর অন্য দুই বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম।
ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তারা মোজাফফর হোসেনের দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাবেন এবং তাকে সেনা হেফাজতে রাখা হবে। প্রতিবেদন জমার সর্বশেষ সময়সীমা ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর জিজ্ঞাসাবাদের সময় তদন্ত দল একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র খুঁজে পায়। 'ঝন্ডু' নামের ব্যক্তির সাথে মাসুদ উদ্দিনের কথোপকথনের উল্লেখ পাওয়া যায়। পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় যে এই ঝন্ডু আসলে অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। সাংবাদিকদের কাছে প্রধান কৌঁসুলি এই সংযোগের বিশদ ব্যাখ্যা করেন।
ট্রাইব্যুনালে কৌঁসুলি উল্লেখ করেন যে জুলাই আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের পর্যায়ে মাসুদ উদ্দিন এবং মোজাফফরের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বিদ্যমান ছিল। তার বক্তব্যে, মোজাফফর সাবেক ফ্যাসিস্ট শাসনের আমলে প্রতিবেশী দেশে অসংখ্যবার ভ্রমণ করেছেন এবং বাংলাদেশে লুকিয়ে থেকে সরকারের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। জুলাইয়ের সহিংস ঘটনাপ্রবাহে মানবতাবিরোধী অপরাধগুলির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তার অংশীদারিত্ব রয়েছে।
মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ ৪৫ বছর পলাতক অবস্থায় ছিলেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে ঘটা সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু এই দীর্ঘ পলায়নের কারণ। উত্থানের পরে তখনকার মেজর মোজাফফর সেনাবাহিনী ত্যাগ করে পালান। জিয়া হত্যার অনুসন্ধানে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় নিবন্ধিত মামলায় তিনি ছিলেন ষষ্ঠ আসামি এবং অভিযোগ ছিল মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি রাষ্ট্রপতির পার্শ্বে অবস্থান করছিলেন। ২০০১ সালে সেই মামলার তদন্ত অপূর্ণ রেখে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
গত জুলাইয়ের ১৫ তারিখের রাতে বনানীতে অবস্থিত একটি ডিওএইচএস পরিবাসস্থল থেকে মোজাফফর হোসেনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করে। পরের দিন তাকে সেনাবাহিনীর হস্তান্তরে দেওয়া হয় এবং সামরিক আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা পরিচালনাধীন রয়েছে।
মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনার জন্য মঙ্গলবার প্রসিকিউশন পক্ষ আবেদন জানিয়েছিল, যা ট্রাইব্যুনাল অনুমোদন করে। প্রধান কৌঁসুলি স্পষ্ট করেন যে ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়ায় কোনো নির্দিষ্ট অপরাধে সরাসরি গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেই। প্রথম পদক্ষেপে 'মিসকেস' (বিবিধ মামলা) দাখিল করে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পরবর্তীতে যখন নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তখন সেই অনুযায়ী মামলা নিবন্ধন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মোজাফফর হোসেন এবং মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী উভয়েই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।