বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথমবার বসনিয়া, সামনে শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র
Administrator
বসনিয়া বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবার সামনে এসেছে, যেখানে তাদের বিপরীতে দাঁড়াচ্ছে শক্তিশালী আমেরিকা; পরিসংখ্যান আমেরিকার পক্ষে থাকলেও বসনিয়ার ফিজিক্যাল শক্তি একটি বড় হুমকি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের নবাগত ও আন্ডারডগ দল হিসেবে এক রূপকথার যাত্রা পার করে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। শেষ বত্রিশের এই ঐতিহাসিক ও মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের অন্যতম সহ-আয়োজক শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্র।
সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে বুধবার (জুলাই ১) বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা) দল দুটি কোয়ার্টার ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে। দীর্ঘ ১২ বছর অপেক্ষার পর বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া বসনিয়া এই ম্যাচের মাধ্যমে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে।
গ্রুপ পর্বের নাটকীয় সমীকরণ পেরিয়ে দুই দলই এই পর্যায়ে পা রেখেছে। গ্রুপ 'ডি' থেকে দুই জয় ও এক পরাজয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করে নকআউটে আসে যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ পর্বে তারা প্যারাগুয়েকে ৪-১ এবং অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ ব্যবধানে হারালেও তুরস্কের কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায়। অন্যদিকে গ্রুপ 'বি' থেকে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী আটটি দলের একটি হিসেবে নাটকীয়ভাবে শেষ বত্রিশে জায়গা করে নেয় বসনিয়া। তারা কানাডার সাথে ১-১ গোলে ড্র করার পর সুইজারল্যান্ডের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়, তবে শেষ ম্যাচে কাতারকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের নকআউট টিকিট নিশ্চিত করে।
পরিসংখ্যান ও শক্তির বিচারে এই ম্যাচে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। সুপারকম্পিউটারের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের সম্ভাবনা ৬৭.৫ শতাংশ এবং যেকোনো উপায়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা ৭৬.৬ শতাংশ।
বিপরীতে বসনিয়ার সরাসরি জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ১৪.৩ শতাংশ এবং ম্যাচটি ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ১৮.৩ শতাংশ। অতীতের মুখোমুখি তিন লড়াইয়ের দুটিতেই জিতেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রেকর্ড বেশ দুর্বল। গত ২১টি ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটিতে জিতেছে এবং শেষ ১৩টি ম্যাচে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে জয়ের মুখ দেখেনি তারা।
বসনিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের খেলোয়াড়দের শারীরিক উচ্চতা ও শক্তিমত্তা। ১.৮৫ মিটার গড় উচ্চতা নিয়ে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে দীর্ঘকায় দল তারা, যা ব্যবহার করে তারা কর্নার থেকে ইতিমধ্যে তিনটি গোল আদায় করেছে। দলের মূল শক্তি হিসেবে আছেন ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও কিংবদন্তি স্ট্রাইকার এদিন ডেকো এবং ফরোয়ার্ড এরমেদিন ডেমিরোভিচ। বদলি হিসেবে নেমে দুটি গোল করা এরমিন মাহমিচ ও তরুণ উইঙ্গার এসবির বাজরাকদারেভিচও প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন। তবে দলটির রক্ষণভাগ বেশ নড়বড়ে, কারণ বিশ্বকাপে খেলা নিজেদের শেষ ছয়টি ম্যাচের একটিতেও তারা জাল অক্ষত রাখতে পারেনি।
স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘরের মাঠের চেনা দর্শক ও চেনা পরিবেশে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গোল আদায় করতে চাইবে। চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন তাদের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক, যা দলটির আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে। আক্রমণভাগে পুলিসিকের সাথে থাকছেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ দুই গোল করা ফোলারিন বালোগান। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন টাইলার অ্যাডামস ও মালিক টিলম্যান। এই ম্যাচে জয় পেলে ২০০২ সালে মেক্সিকোকে হারানোর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় জয়। এই ম্যাচের বিজয়ী দল শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়াম অথবা সেনেগালের মুখোমুখি হবে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।