শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের সম্পদ বিক্রি: সাটুরিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

2 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | সারাদেশ
টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের সম্পদ বিক্রি: সাটুরিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় তিল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়াই গাছ কাটা ও ভবন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশাসনিক তদন্তের দাবি উঠেছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

সাটুরিয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিদ্যালয়ের মূল্যবান গাছ কাটা ও ভবন বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার টেন্ডার বা প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যালয়ের সম্পদ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ এভাবে ব্যক্তিগত ইচ্ছামতো বিক্রি করা কেবল বিধিভঙ্গই নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের শামিল বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড ও গোপন রেজুলেশন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম ভূঁইয়া অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বেশ কিছু মূল্যবান গাছ কেটে ফেলেছেন। এছাড়া একটি পরিত্যক্ত ভবন নামমাত্র ৮৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। বিস্ময়কর বিষয় হলো, সম্পদ বিক্রির পর তড়িঘড়ি করে পরিচালনা কমিটির সভায় তা অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। শিক্ষা আইন অনুযায়ী, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। অথচ এখানে সেই নিয়মকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও জবাবদিহিতার সংকট

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিগত রাজনৈতিক সরকারের আমলে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিলেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও তাঁর কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আসেনি। স্থানীয় বাসিন্দা মহর আলীর মতে, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নের চেয়ে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনেই প্রধান শিক্ষকের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভের নেশায় মত্ত থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ আজ হুমকির মুখে।

প্রশাসনের ভাষ্য ও পরবর্তী পদক্ষেপ

সাটুরিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফকির জাকির হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গাছ কাটা বা ভবন বিক্রির জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো আইনি অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানিয়েছেন, মৌখিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সাপেক্ষে তদন্ত কমিটি গঠন করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষা এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।