শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

নাজাফে ইরানপন্থী কমান্ডারের কবর জিয়ারত: ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ?

2 ঘন্টা আগে | আপডেট: 18 মিনিট আগে | বিশ্ব
নাজাফে ইরানপন্থী কমান্ডারের কবর জিয়ারত: ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ?

নাজাফে ইরানপন্থী কমান্ডার আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের কবর জিয়ারত করলেন ইরানের স্পিকার গালিবাফ। এই সফর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও ইরান-ইরাক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী বার্তা দিচ্ছে?

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

প্রতীকী সফর ও কৌশলগত বার্তা

ইরাক সফরের তৃতীয় দিনে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নাজাফের ওয়াদি আল-সালাম কবরস্থান পরিদর্শন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তেহরানের প্রভাব বিস্তারের এক সুস্পষ্ট বার্তা। আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে গালিবাফ মূলত ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সাথে ঐতিহাসিক ও আদর্শিক সংহতির বিষয়টি নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছেন।

আবু মাহদি আল-মুহান্দিস: প্রভাব ও উত্তরাধিকার

পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) উপপ্রধান হিসেবে আল-মুহান্দিস ইরাকের নিরাপত্তা কাঠামোয় যে গভীর প্রভাব ফেলেছিলেন, তা আজও অমলিন। ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় জেনারেল কাসেম সোলেইমানির সঙ্গে তাঁর মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছিল। গালিবাফের এই সফর প্রমাণ করে যে, ইরানের নীতিনির্ধারকদের কাছে এই কমান্ডাররা কেবল সামরিক ব্যক্তিত্ব নন, বরং আঞ্চলিক প্রতিরোধের ‘আইকন’ হিসেবে বিবেচিত হন।

ইরাক-ইরান সম্পর্কের নতুন মাত্রা

গালিবাফের এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করা। ইরাকের মাটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে ইরান বরাবরই ‘অস্থিতিশীলতার উৎস’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। নাজাফের এই ঐতিহাসিক কবরস্থানে দাঁড়িয়ে গালিবাফের উপস্থিতি ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তেহরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং বাগদাদের সঙ্গে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের গভীরতাকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এই সফরের প্রভাব ইরাকের স্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।