রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

জেলার গর্ব বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি সুরক্ষায় ৩৯ নাগরিকের যৌথ কণ্ঠ: ঝিনাইদহে ভাস্কর্য অপসারণের তীব্র নিন্দা

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | জাতীয়

Administrator

জেলার গর্ব বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতি সুরক্ষায় ৩৯ নাগরিকের যৌথ কণ্ঠ: ঝিনাইদহে ভাস্কর্য অপসারণের তীব্র নিন্দা

দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ সুরক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং দেশব্যাপী ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

দেশের ৩৯ জন প্রভাবশালী ও সচেতন নাগরিক ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য অপসারণের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এই স্মৃতিস্তম্ভকে যথাযথ মর্যাদায় পুনর্স্থাপনের জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো একটি যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে অবস্থিত এক সড়কের বেদিতে জেলার কৃতী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ কাজ চলছিল। কিন্তু স্থানীয় জনগণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই জেলা প্রশাসন তা অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সর্বত্র গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে গত বছরের ৫ আগস্টের পরে স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী এই নির্মাণাধীন ভাস্কর্যে ভাঙচুর করে। ক্ষতিগ্রস্ত ভাস্কর্য মেরামত না করে বরং তা অপসারণের সিদ্ধান্ত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের মহান স্মৃতির প্রতি সরাসরি অসম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে বলে স্বাক্ষরকারীরা মন্তব্য করেছেন।

যদিও সরকার সংঘর্ষজনক পরিস্থিতি এড়ানোর কথা বলেছে, কিন্তু নাগরিক সমাজ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মতামত সংগ্রহ ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ দায়িত্বজ্ঞানের অভাব প্রদর্শন করে বলে বিবৃতিদাতারা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

স্বাক্ষরকারীরা শুধুমাত্র ঝিনাইদহের এই ভাস্কর্যটির পুনঃস্থাপন দাবি করেননি, বরং সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ও স্মৃতিস্তম্ভ মেরামত এবং পুনর্নির্মাণের জন্যও দৃঢ় দাবি উত্থাপন করেছেন। পাশাপাশি এই কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, লেখক রেহনুমা আহমেদ, মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও গীতি আরা নাসরিন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নোভা আহমেদ, লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ, নৃবিজ্ঞানী ও গবেষক ড. ঈশিতা দস্তিদার, গবেষক ও অধিকারকর্মী রোজিনা বেগম, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ, আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী পারভেজ হাসেম, ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ ফেলো সাদাব নুর, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, মানবাধিকারকর্মী সাঈদ আহমেদ, কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস, আদিবাসী কবি ও সংস্কৃতিকর্মী মিঠুন রাফসান, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, অধিকারকর্মী মুক্তাশ্রী চাকমা, আদিবাসী অধিকারকর্মী মেইনথিন প্রমীলা, অধিকারকর্মী ড. হানা শামস আহমেদ এবং সাংবাদিক ও গবেষক সায়দিয়া গুলরুখ।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।