জলাবদ্ধতার নামে 'পলিটিক্যাল থিয়েটার' বন্ধের হুংকার সারজিস আলমের
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে জনপ্রতিনিধিদের লোক দেখানো কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করলেন সারজিস আলম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, উন্নয়ন নাটকের বদলে এবার কার্যকর ও টেকসই সমাধান চায় নগরবাসী।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা: লোক দেখানো নাটকের অবসান চায় নগরবাসী
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের এক ক্ষত। প্রতি বর্ষা মৌসুমে হাঁটু কিংবা কোমর সমান পানিতে জনপ্রতিনিধিদের ফটোসেশন বা নৌকা নিয়ে পরিদর্শনের দৃশ্য এখন চট্টগ্রামের মানুষের কাছে এক পরিচিত 'রাজনৈতিক নাটক'। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম সম্প্রতি এই চর্চার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবল অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতি বছর শহরটি তলিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ও দায়বদ্ধতার সংকট
সারজিস আলম স্পষ্ট করেছেন যে, বর্ষা শেষ হলেই জনপ্রতিনিধিরা এই সমস্যার কথা ভুলে যান। তিনি বলেন, 'শরৎ বা শীতকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায় না। যখন আবার বর্ষা আসে, তখন পুরনো সেই লোক দেখানো কর্মকাণ্ড শুরু হয়।' তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ২০২৭ সালে আর এমন দায়সারা কার্যক্রম চট্টগ্রামবাসী মেনে নেবে না। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কোনো দল বা জনপ্রতিনিধির কাছ থেকেই এমন ভণ্ডামি প্রত্যাশিত নয়।
দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা
কেবল ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার নয়, বরং পানি নিষ্কাশন, আধুনিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নগর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন সারজিস। তিনি মনে করেন, চট্টগ্রাম কেবল একটি শহর নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। তাই এই শহরের উন্নয়নে কোনো গাফিলতি মানেই জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি। আগামী এক বছরের মধ্যে একটি টেকসই ও কার্যকর রোডম্যাপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উপসংহার: সেবকের অপেক্ষায় চট্টগ্রাম
সারজিস আলমের এই বার্তা স্পষ্ট—চট্টগ্রামের মানুষ আর অভিনয় দেখতে চায় না, তারা চায় ফলাফল। জনপ্রতিনিধিদের উচিত ক্ষমতার দম্ভ ভুলে নাগরিকদের মৌলিক সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হওয়া। শুধুমাত্র লোক দেখানোর জন্য কাজ করলে সেই সেবকের প্রয়োজন চট্টগ্রামের নেই। আগামী বর্ষার আগেই নগরবাসীকে জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম উপহার দেওয়ার চ্যালেঞ্জ এখন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সামনে। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকেও তিনি আলোচনার টেবিলে নিয়ে এসেছেন।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।