চীনে জাতিগত সংহতি আইন জোরদার করলো বেইজিং
Administrator
চীনের নতুন আইন শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে মান্দারিন চীনা ভাষা বাধ্যতামূলক করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সমালোচকরা।
বেইজিংয়ে নতুন একটি বিতর্কিত “জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন” কার্যকর হওয়ার পর চীনের সংখ্যালঘু নীতিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনের মাধ্যমে দেশটির ৫৬টি স্বীকৃত জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ‘জাতিগত ঐক্য’ জোরদার করার নামে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। বিশেষ করে তিব্বতি, উইঘুরসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
গাজায় ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ বাড়াচ্ছে ইসরায়েল
নতুন আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলোতে মান্দারিন চীনা ভাষাকে প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের “চীনা জনগণের অভিন্ন সম্প্রদায়ের শক্ত ধারণা গড়ে তোলা” বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অভিভাবকদের সন্তানদের চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য শেখানোর দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চীনের ইতিহাস ও জাতীয় উন্নয়নের বিষয়বস্তু প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আইনটি শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিদেশে অবস্থানরত ব্যক্তি বা সংগঠনও যদি চীনের “জাতিগত ঐক্য” নষ্ট করে বা বিভাজন সৃষ্টি করে বলে বিবেচিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ কারণে মানবাধিকারকর্মী ও গবেষকরা এটিকে “ট্রান্সন্যাশনাল দমননীতি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে কড়া বার্তা ইরানের
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, এই আইন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত সমালোচক ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের ওপর নজরদারি ও চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কাও তারা প্রকাশ করেন।
চীনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, এই আইন সব জাতিগোষ্ঠীর বৈধ অধিকার রক্ষার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি কোনোভাবেই সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে না। তাদের মতে, জাতীয় ঐক্যই দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার মূল ভিত্তি।
নাইজেরিয়ায় স্কুলে বন্দুকধারীদের হামলা, ৩৭ শিক্ষার্থী নিখোঁজ
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের দীর্ঘমেয়াদি নীতি এখন আরও স্পষ্টভাবে একটি একক জাতীয় পরিচয় গঠনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে সংখ্যালঘু পরিচয় রাষ্ট্র-নির্ধারিত পরিচয়ের অধীন থাকবে। এতে করে বৈশ্বিক পর্যায়ে সমালোচনা ও কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।