সড়ক ব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ার ত্রুটি নিয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের পর্যবেক্ষণ
বিআরটিএ-তে ড্রাইভিং পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে দেশের সড়ক ও লাইসেন্স প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
সম্প্রতি বিআরটিএ অফিসে গিয়ে ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা ও লাইসেন্সিং পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা নিয়ে ফেসবুকে বিস্তারিত লিখেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আইন থাকার পরেও ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও বেপরোয়া যান চলাচল অবাধে চলছে।
ফেসবুক পোস্টে তিনি শৈশবের একটি ছবি শেয়ার করে জানান, লন্ডনের পর সম্প্রতি ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো ড্রাইভিং টেস্ট দিয়েছেন এবং উভয়ক্ষেত্রেই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেন, ঢাকার বাস্তবতায় সড়ক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং।
তরুণ প্রজন্মের হতাশার কথা উল্লেখ করে জাইমা বলেন, নিয়ম মানার পরিবেশ না থাকায় সাধারণ মানুষ ও চালকরা এক ধরণের অনিশ্চয়তায় ভোগেন। ফুটপাত দখল, ক্রসিংয়ের অভাব এবং বিশৃঙ্খল যাতায়াত ব্যবস্থায় পথচারীদের ভোগান্তি চরমে। যাত্রী হিসেবেও একজন নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়, কারণ চালকের দক্ষতা বা গাড়ির ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
ডিজিটাল সেবার নামে বিআরটিএ-এর জটিলতা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তার মতে, অনলাইন সেবা যদি শেষ পর্যন্ত সশরীরে অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন তৈরি করে, তবে তা ব্যর্থ। দালালদের দৌরাত্ম্য এই প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। তিনি মনে করেন, নিয়ম বেছে বেছে প্রয়োগ করায় মানুষের আইনের প্রতি আস্থা কমে যাচ্ছে। দুর্নীতি কেবল অপরাধ নয়, বরং প্রতিকারের অভাবই বড় সমস্যা। তিনি দাবি করেন, সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু শাস্তির চোখে না দেখে সাধারণ মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ঢেলে সাজাতে হবে। আট বছর আগে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, সমস্যার সমাধান কেন এখনো অধরা রয়ে গেছে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।