শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

হাতিয়ায় সরকারি প্রণোদনার বাদাম বীজে চারা না ওঠায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা

2 বছর আগে | আপডেট: 5 দিন আগে | সারাদেশ
হাতিয়ায় সরকারি প্রণোদনার বাদাম বীজে চারা না ওঠায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সরকারি প্রণোদনার বাদাম বীজ রোপণের পর চারা না ওঠায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। নিম্নমানের বীজ সরবরাহের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় সরকারি প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা চিনাবাদামের বীজে চারা না গজানোর অভিযোগ উঠেছে। শ্যূনের চর গ্রামের চাষি মফিজ উদ্দিন জানিয়েছেন, গত ৬ জানুয়ারি সরকারি বীজ পাওয়ার পর ৮ জানুয়ারি রোপণ করলেও ১৭ দিনেও কোনো চারা বের হয়নি। উল্টো তার নিজস্ব বীজ থেকে রোপণ করা ২০ শতক জমির বাদাম গাছ ঠিকঠাক গজিয়েছে। তিনি নিম্নমানের ও পচা বীজ সরবরাহের জন্য কৃষি অফিসের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।

একই গ্রামের কৃষক রাশেদ জানান, কৃষি তালিকায় নাম থাকায় তার প্রতিবেশী শাহজাহানের কাছ থেকে সরকারি বীজ কিনে রোপণ করেছিলেন, কিন্তু তাতেও কোনো ফল মেলেনি। অথচ বাজার থেকে কেনা বীজ থেকে চারা ভালোভাবেই জন্মেছে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী কৃষক আবু তাহের বলেন, ধারদেনা করে শ্রমিক নিয়ে ১ একর ৬০ শতক জমিতে চাষাবাদ করেছিলেন, কিন্তু বীজের ব্যর্থতায় এখন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

নলচিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনছুর উল্লা শিবলী জানান, বীজগুলো নিম্নমানের হওয়ায় কৃষকদের সেগুলো বিক্রি করে দিয়ে নতুন বীজ কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজ জানান, বীজগুলো বিএডিসি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং এগুলো পর্যবেক্ষণে আরও সপ্তাহখানেক সময় প্রয়োজন।

কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার হাতিয়ায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন এবং বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা। বিএডিসি নোয়াখালীর উপ-পরিচালক নুরুল আলম অবশ্য দাবি করেছেন, অতিরিক্ত শীতের কারণে চারা গজাতে দেরি হতে পারে। এছাড়া চরঈশ্বর ইউনিয়নে মানসম্পন্ন ভিত্তিবীজ সরবরাহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।