শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সুনাবিপ্রবির প্রাক্তন উপাচার্য: গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | সারাদেশ

Administrator

সুনাবিপ্রবির প্রাক্তন উপাচার্য: গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষকরা তার কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যপদে পরিবর্তন ঘটেছে। প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক অব্যাহতি পেয়েছেন এবং তাঁর স্থানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জাকির হোসেন নিয়োগ পেয়েছেন। নতুন উপাচার্য বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

প্রাক্তন উপাচার্যের বিরুদ্ধে কর্মসংস্থান প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সিন্ডিকেট সদস্য ও শিক্ষকমণ্ডলী তাঁর সময়ের সমস্ত কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি করেছেন।

সিন্ডিকেট সদস্য নুরুল ইসলাম সাজু জানান, নিজের পদ ও প্রভাব বজায় রাখতে প্রাক্তন উপাচার্য নিয়মিত রাজধানীতে লবিংয়ের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করতেন। প্রতিটি ভ্রমণে তিনি ২৯ থেকে ৩৫ হাজার টাকার যাতায়াত ভাতার বিল উপস্থাপন করেছেন। আর্থিক বিষয়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখে তিনি বিভিন্ন অনিয়মের সংঘটন করেছেন। আঞ্চলিক গর্বের এই প্রতিষ্ঠানকে তার নেতৃত্বে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মীসংস্থান প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে। নিয়মবিরুদ্ধ শর্তাবলী বারবার পরিবর্তন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গত বছরের মে মাসে সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ডিন ও প্রশাসক বরাবর দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিজিপিএ ৩.০০ এর শর্ত, পূর্বঅভিজ্ঞতা ও বয়সসীমার ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়েছিল। ব্যাপক সমালোচনার পর শর্তাবলী শিথিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষকদের অভিমত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে নিয়োগের শর্ত বারবার রূপান্তরিত হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক জুনিয়র ও আনুগত্যশীল কর্মকর্তাদের নিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে তিনি একক ক্ষমতায় প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন বলে জানা যায়।

এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক। তিনি জানান, অব্যাহতির আদেশ প্রাপ্তির পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পূর্ববর্তী পদে কাজ শুরু করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়মের সকল দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঢাকায় প্রতিটি ভ্রমণের পেছনে বৈধ প্রাতিষ্ঠানিক কারণ বিদ্যমান ছিল। প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংকট মোকাবেলায় তিনি একাধিক পদের দায়িত্ব সামলাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।