সিভিল সার্জনের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
Administrator
বরিশালের শিক্ষার্থীরা বিতর্কিত সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তার অপসারণ দাবি করছেন এবং অবস্থান কর্মসূচিতে তার অফিসে প্রতীকী তালা ঝুলিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিনের নিয়োগের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আসা এই শিক্ষার্থীরা তার অপসারণ নিয়ে অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গে তার নির্ধারিত কার্যালয়ের দরজায় প্রতীকীভাবে তালা বন্ধ করে দেন।
এই কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছিল সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মুখভাগে, রোববার ২৬ জুলাই, প্রাতঃকালীন দশটার দিকে।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা জানান যে একজন কর্মকর্তা, যিনি পূর্বে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক অনিয়মের জন্য শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, তাকে বর্তমানে বরিশালের সিভিল সার্জনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া সর্বথা অগ্রহণীয়। প্রদর্শনীর সময়ে যখন শিক্ষার্থীরা অফিসে তথ্য সংগ্রহ করেন, তখন জানা যায় যে যদিও এটি তার যোগদানের চূড়ান্ত দিন ছিল, ডা. মনিরুজ্জামান কার্যালয়ে আপন নিজস্ব উপস্থিতি প্রদান করেননি। এর পরেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তার অফিসের প্রবেশদ্বারে প্রতীকী তালাকাঠি স্থাপন করেন।
সরকারি বিএম কলেজ থেকে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন মনে করেন যে এমন একজন ব্যক্তিত্বকে, যার বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশাসনিক অভিযোগ রয়েছে, বরিশালের মতো কৌশলগত গুরুত্বের জেলার স্বাস্থ্য প্রশাসনের শীর্ষ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া সমীচীন নয়। তার মতে, একজন নিরপেক্ষ এবং সততার সাথে পরিচিত প্রশাসককে শীঘ্রই সিভিল সার্জন পদে প্রতিষ্ঠিত করা হওয়া উচিত।
একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, বরিশালের জনগণ মানসম্পন্ন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা লাভের ন্যায্য অধিকার প্রাপ্য। তার মতে, বিতর্কসংকুল এই প্রশাসককে দূর করে জনহিতে একজন নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ অত্যাবশ্যক হয়ে পড়েছে। লাবণ্য জোর দিয়ে বলেন যে এই শিক্ষার্থী আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার সুরক্ষিত করা।
শিক্ষার্থী নাঈম ইসলাম আরও তথ্য সংযোজন করেন যে অতীতের কর্তৃত্ববাদী সময়ে এই কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ন ও অত্যাচার প্রদর্শন করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এমন একজন অত্যাচারী এবং অসততার সাথে জড়িত প্রশাসককে বরিশালে কার্যকর দেখতে অপ্রস্তুত।
আন্দোলন সমাপ্তিতে শিক্ষার্থীরা ডা. মনিরুজ্জামানের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন এবং তার স্থলে একজন যোগ্য, কর্মক্ষম এবং নিরবচ্ছিন্ন সুনাম সম্পন্ন কর্মকর্তা নিয়োগের আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীরা সতর্ক করে জানান যে তাদের এই ন্যায্য দাবি পূরণ না হলে আরও ব্যাপক ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।