মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: দীর্ঘসূত্রতার বৃত্তে ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষা

4 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | জাতীয়
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা: দীর্ঘসূত্রতার বৃত্তে ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষা

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও শঙ্কা।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আবারও পরিবর্তন করা হয়েছে। হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে রায় প্রদানের নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী ৩১ আগস্ট। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই বারবার সময়ক্ষেপণ ভুক্তভোগী পরিবার এবং সচেতন মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার ভয়াবহতা ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের ৫ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় নির্মমতার শিকার হয় শিশু আছিয়া। পারিবারিক বেড়াতে গিয়ে সে তার বোনের শ্বশুর হিটু শেখের লালসার শিকার হয়। দীর্ঘ আট দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১৩ মার্চ ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত দ্রুতগতির; মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারকাজ শেষ করে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

কেন বারবার পেছাচ্ছে রায়?

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত জটিলতা এবং আদালতের সময়সূচির সমন্বয় অনেক সময় রায় ঘোষণায় বিলম্ব ঘটায়। তবে নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলায় বারবার তারিখ পরিবর্তনের ফলে বিচারপ্রার্থী পরিবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের মনে এক ধরনের প্রশ্রয় তৈরি করতে পারে।

উপসংহার: ন্যায়বিচার কি তবে সুদূরপরাহত?

৩১ আগস্টের নতুন তারিখকে কেন্দ্র করে এখন সারা দেশের নজর মাগুরা শিশু হত্যা মামলার দিকে। সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা একটাই—নির্দোষ শিশু হত্যার এই নৃশংস ঘটনায় যেন সর্বোচ্চ আইনি স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং অপরাধী যেন কোনোভাবেই পার না পায়। দ্রুত ও চূড়ান্ত বিচারই পারে এমন অপরাধ দমনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।