শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

শিলিগুড়ি করিডোর: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার নতুন কৌশল ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

3 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | বিশ্ব
শিলিগুড়ি করিডোর: ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার নতুন কৌশল ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন ত্রি-স্তরীয় গ্রিড গঠন করেছে ভারত। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আরও শক্তিশালীভাবে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

শিলিগুড়ি করিডোর ও ভারতের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তকারী শিলিগুড়ি করিডোর, যা বিশ্বজুড়ে 'চিকেনস নেক' বা মুরগির ঘাড় নামে পরিচিত, দেশটির কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শিলিগুড়ি সফরকালে এই করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এই সরু ভূখণ্ডটি ভারতের অখণ্ডতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা গ্রিড ও সামরিক সক্ষমতা

অমিত শাহ জানিয়েছেন, চোপড়া, কিষাণগঞ্জ ও ধুবড়িকে কেন্দ্র করে এই নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং দ্রুত সামরিক মোতায়েন নিশ্চিত করা। 'তিস্তা প্রহার'-এর মতো সামরিক মহড়া এই করিডোরের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। এছাড়া, রানিডাঙ্গায় এসএসবি ফ্রন্টিয়ারের নতুন প্রশাসনিক ও আবাসিক প্রকল্পের উদ্বোধন ভারতের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক প্রস্তুতিরই অংশ।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন

সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ একটি বড় বাধা ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় ১ হাজার ১২৯ একর জমি হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে, যা বিএসএফ ও এসএসবির কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এছাড়া 'ভাইব্রেন্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম ২.০'-এর অধীনে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর জীবনযাত্রার মান ও নিরাপত্তার চিত্র বদলে দিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

নিরাপত্তার পাশাপাশি শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি স্টেশনের আধুনিকায়ন এবং দিল্লি-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডোর প্রকল্প এই অঞ্চলকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর নাগাদ এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ আরও সহজতর হবে, যা দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ভূমিকা রাখবে।

উপসংহারে বলা যায়, শিলিগুড়ি করিডোরকে ঘিরে ভারতের এই বহুমুখী উদ্যোগ শুধুমাত্র সামরিক নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক কৌশল। সীমান্তবর্তী অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভারত তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আরও সুরক্ষিত ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।