শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

রিয়াল মাদ্রিদের বড় বিনিয়োগ: মরিনিওর সাথে ফিরেছে ২০১০ এর দৃশ্য

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 সপ্তাহ আগে | খেলা

Administrator

রিয়াল মাদ্রিদের বড় বিনিয়োগ: মরিনিওর সাথে ফিরেছে ২০১০ এর দৃশ্য

রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনার আধিপত্য ভাঙতে মরিনিওর সাথে ২০১০ এর মতো বিশাল বিনিয়োগ শুরু করেছে, কিন্তু গত বছরের ব্যর্থ সংগ্রহ এই উদ্যোগকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

বার্সেলোনা শুধু লা লিগায় নয়, ঘরোয়া ফুটবলের সকল প্রধান প্রতিযোগিতায় রাজত্ব করছে গত দুই সিজনে। কোপা দেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপ সহ তিনটি প্রতিযোগিতায় ছয় ট্রফির মধ্যে পাঁচটি জিতেছে কাতালান ক্লাব, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ একটিও পায়নি। ইউরোপে রিয়ালের অবস্থান ভিন্ন—চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের রয়েছে রেকর্ড ১৫টি ট্রফি এবং লা লিগায়ও সর্বাধিক শিরোপা, তবে বার্সার তুলনায় সাতটি বেশি মাত্র। প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একটি দুর্দান্ত পরিকল্পনা কার্যকর করতে।

রিয়ালের বর্তমান স্থানান্তর কৌশল ঠিক যেমন ছিল আড়ম্বরময় ২০১০ সালের গ্রীষ্মে, এটি বিশ্লেষকদের সামনে অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। সেই সময়েও স্পেন বিশ্বকাপ জিতেছিল বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের নিয়ে এবং এবারও একই ঘটনা ঘটেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস বলছে, এই সমন্বয়টি নিছক কাকতালীয় নয় বরং একটি সুচিন্তিত কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।

১৬ বছর আগে বার্সেলোনা ছিল ইউরোপের ফুটবলে অপ্রতিরোধ্য শক্তি। পেপ গার্দিওলার নেতৃত্বে ২০০৯ সালের ট্রেবল জয়ের পরে তারা ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং লিওনেল মেসির অসাধারণ প্রতিভা নিয়ে আগামী বছরগুলোতেও আধিপত্য ধরে রাখার সম্ভাবনা দেখাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে রিয়ালের মালিক ইন্টার মিলান থেকে জোসে মরিনিওকে আনলেন কোচের দায়িত্বে।

মরিনিওকে নিয়োগ দিতে ক্ষতিপূরণ গুনতে হয়েছিল, কিন্তু পেরেজ দ্রুত সাফল্যের জন্য অতুলনীয় একটি দল গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বেনফিকা থেকে আনহেল দি মারিয়া, ভের্ডার ব্রেমেন থেকে মেসুত ওজিল, স্টুটগার্ট থেকে সামি খেদিরা এবং মরিনিওর সাবেক দল ইন্টার মিলানের রিকার্দো কারভাহালকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এছাড়াও সার্হিও কানালেস এবং পেদ্রো লেওন যুক্ত হয়েছিলেন। আগের গ্রীষ্মে রিয়াল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কাকা, করিম বেনজেমা ও জাবি আলোনসো দিয়ে ইতিহাসের বৃহত্তম পুনর্নির্মাণ শুরু করেছিল।

এবার পেরেজ মরিনিওকে আবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে এসেছেন এবং তার জন্য আরও শক্তিশালী দল তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। চেলসি থেকে মার্ক কুকুরেয়াকে ৬০ মিলিয়ন ইউরোয় এবং ইন্টার মিলান থেকে ডেনজেল ডামফ্রিসকে ২০ মিলিয়ন ইউরোয় অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ইব্রাহিমা কোনাতে এবং বের্নার্দো সিলভা দুজনই তাদের চুক্তি শেষ হওয়ার পরে বিনা খরচে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি থেকে যোগদান করেছেন।

রিয়ালের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। আইভরি কোস্টের ১৯ বছর বয়সী প্রতিশ্রুতিশীল উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দেকে আনতে ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি বিনিয়োগের প্রস্তুতি রয়েছে এবং ম্যানচেস্টার সিটির স্পেনীয় মিডফিল্ডার রদ্রিকে অর্জনের জন্য তিন অঙ্কের প্রস্তাব অপেক্ষা করছে। এ দুটি স্থানান্তর সম্পূর্ণ হলে মরিনিওর জন্য এই বছরের বিনিয়োগ ২০১০ সালের তুলনায় আরও বেশি হবে বলে এএস জানাচ্ছে।

তবে বিশাল অর্থ ব্যয়ের নিশ্চয়তা সাফল্যের আসে না, যা রিয়াল খুব কাছ থেকে অনুভব করেছে মাত্র এক বছর আগে। ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোর বেশি খরচ করে ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, ডিন হুইসেন, আলভারো কারেরাস এবং ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে আনা হয়েছিল, কিন্তু কেউই এখন পর্যন্ত প্রথম একাদশে নিজেদের স্থান দৃঢ় করতে পারেনি। বিশেষত আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডকে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য জুন-জুলাইতে খেলানোর উদ্দেশ্যে আগে থেকেই অতিরিক্ত খরচে নিয়ে আসা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে চোট এবং ফর্মের কারণে তিনি এ বছরের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্থান পাননি।

এএস সাংবাদিকদের বিশ্লেষণে পরিষ্কার যে এবারের পদক্ষেপ শুধুমাত্র দলের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা নয়, বরং আগের বিলিয়ন-টাকার বিনিয়োগে প্রত্যাশিত ফলাফল না পাওয়ার পর একটি সম্পূর্ণ নতুন সূচনা করার প্রয়াস। ২০১০ সালের প্রথম মৌসুমে মরিনিওর দল ঘরোয়া তিন ট্রফির মধ্যে কেবল কোপা দেল রে জিতেছিল এবং লা লিগা ও সুপার কাপ বার্সেলোনার হাতে ছেড়ে গিয়েছিল, যার সাথে ছিল চ্যাম্পিয়নস লিগও।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।