রাজবাড়ীর রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত
Administrator
রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। ট্রেনের যন্ত্রপ্রযুক্তিগত বিফলতা এবং গেটম্যানের অসতর্কতা এই দুর্ঘটনার পিছনে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত রোববার (২৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজবাড়ীর খানখানাপুর রেলক্রসিংয়ে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একটি যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্রা যানবাহন এবং একটি মোটরসাইকেল চলমান ট্রেনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।
খুলনার উদ্দেশ্যে ছুটে চলা তেলবাহী ট্রেনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইঞ্জিনের সাথে পিছনের বগির সংযোগস্থলে লাগানো জয়েন্ট হুক হঠাৎ ছিঁড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ ইঞ্জিন এবং সামনের অংশ পৃথক হয়ে এগিয়ে যায়।
ট্রেনের অগ্রভাগ সম্পূর্ণভাবে ক্রসিং পেরিয়ে যাওয়ার পর, গেটম্যান ভেবে নিলেন পুরো ট্রেন এখন অতিক্রম করে গেছে। এই ভুল অনুমানের ভিত্তিতে তিনি লেভেলক্রসিংয়ের বেরিয়ার তুলে দেন এবং গেট খুলে দেন।
গেট উন্মোচিত হওয়ার সাথে সাথে দুই পাশে সংগৃহীত গাড়িগুলো ক্রসিং পার করতে এগিয়ে যায়। ঠিক এই মুহূর্তেই ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন পিছনের বগিগুলো দ্রুত গতিতে পিছন থেকে আসে এবং বাসের উপর প্রচণ্ড আঘাত করে।
সংঘর্ষের তৎক্ষণাৎ ট্রেনের বগিগুলো তিনটি যানবাহনকে দীর্ঘ পথ টেনে নিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় বাস, মাহিন্দ্রা এবং মোটরসাইকেল সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয় এবং স্থানটি বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার সাহায্যে এগিয়ে আসেন। পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং প্রশাসনিক কর্মীরা শীঘ্রই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যাপক উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
দুর্ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। তাদের জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজবাড়ী, গোয়ালন্দ এবং ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
উদ্ধার কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি এবং ঘটনাস্থলে অপারেশন অব্যাহত রয়েছে। মৃত ও আহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নির্ধারণের জন্য পুলিশ এবং মেডিক্যাল সংস্থাগুলো নিরন্তর কর্মরত রয়েছে।
অনুসন্ধানকারী দল বর্তমানে নির্ণয় করছে যে গেটম্যানের অবহেলা নাকি ট্রেনের যন্ত্রপ্রযুক্তিগত বিফলতা এই দুর্যোগের কারণ। তদন্ত সম্পন্নের পর প্রকৃত কারণ এবং সঠিক ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হবে বলে প্রশাসনিক মুখপাত্র জানিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।