শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাবের বাজার সচল, চাহিদা সারাবছর

1 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 1 দিন আগে | সারাদেশ

Administrator

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাবের বাজার সচল, চাহিদা সারাবছর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডাব বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাসিক দেড় লাখ পিস বিক্রয় হচ্ছে। তবে ক্রেতারা ১২০-১৫০ টাকার উচ্চ মূল্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তুষ্ট হচ্ছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পরিমাণে ডাব আমদানি করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এই প্রাকৃতিক পানীয়ের ব্যবসা এখন জেলায় ব্যাপক গতি পেয়েছে এবং হাজারো মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।

গড়ে প্রতিদিন জেলার বাজারে সাড়ে চার হাজার পিস ডাব লেনদেন হয়ে থাকে, যার মধ্যে শহর এলাকায় বিক্রিত হয় তিন হাজারের অধিক পিস। মাসিক হিসাবে দেখলে, জেলায় দেড় লাখেরও বেশি পিস ডাব বিক্রয় হয়, যার মোট বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

জেলায় ডাব ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন প্রায় দেড়শ জন ব্যবসায়ী, তন্মধ্যে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় কাজ করেন মাত্র তিন থেকে চল্লিশ জন। সিংহভাগ ব্যবসায়ী ফুটপাত থেকে কাজ পরিচালনা করেন, অনেকে আবার ভ্যানগাড়ি ব্যবহার করেন।

বাজারে ডাবের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য নেই বলেই খুচরা বিক্রয়ে প্রতি পিসে দাম নির্ধারিত হয়েছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। ক্রেতাদের চাহিদা প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি থাকলেও সরবরাহ সীমিত রয়েছে।

মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। বিশেষত সাধারণ ও দরিদ্র মানুষদের জন্য প্রতিটি ডাব সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। কাজীপাড়া বাসিন্দা ইমন মিয়া বলেছেন, গ্রীষ্মের আগাম সময়ে তিনি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ডাব পেতেন, কিন্তু বর্তমান বাজারে ১২০-১৫০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এই দামের হঠাৎ লাফিয়ে বৃদ্ধিকে তিনি ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম ঊর্ধ্বমূল্যনীতির ফল বলে মনে করেন।

হাসপাতালের সন্নিকটে তার দোকান পরিচালনাকারী আকাশ মিয়া প্রতিদিন গড়ে একশ পিস ডাব বিক্রয় করেন। কর্মীদের পারিশ্রমিক বাবদ খরচ করে তার মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় বারো থেকে পনের হাজার টাকা।

অপর ডাব বিক্রেতা মো. রবি জানান, বাজারে যখন ডাব সংকটাপন্ন থাকে তখনই দাম বৃদ্ধি পায়। বিক্রয় ভালো থাকলে তার দৈনিক আয় পনেরশ থেকে দুই হাজার টাকা হয়। পরিবারের সকল প্রয়োজন এই ব্যবসার আয় দিয়ে পরিচালিত হয়। অবশ্য অনেক সময় সরবরাহকারী কিছু নিম্নমানের ও পঁচা ডাবও পাঠান, যার কারণে তার ক্ষতি সহ্য করতে হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ডাব সরবরাহকারী হান্নান মিয়া প্রতি সপ্তাহে তিন থেকে চার হাজার পিস ডাব পৌঁছে দেন। শহরে তার মতো আরও দুইজন পাইকারি সরবরাহকারী রয়েছেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে নতুন উদ্যোক্তারা এই খাতে প্রবেশ করছেন। হান্নান মিয়া বলেন, চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে পণ্য যোগান দিতে না পারা এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে ডাবের দামে উর্ধ্বমুখিতা এসেছে। তিনি পাইকারি হারে প্রতি পিস ডাব ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দামে ক্রয় করেন। দুর্ভাগ্যবশত, মানসম্মত ডাবের পাশাপাশি নিম্নমানের অনেক ডাবও একই মূল্যে পাওয়া যায়, যা চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, এই মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের কোনো সংঘবদ্ধ অপচেষ্টা নেই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডাবের পানির পুষ্টিগুণ তুলে ধরেছেন। ডাবের পানি প্রচুর পরিমাণে খনিজ লবণ ও প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের (২৫০ শয্যা বিশিষ্ট) তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক ডাক্তার রতন কুমার ঢালী বলেছেন, গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপমাত্রার কারণে মানবশরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ নিঃসরিত হয়। এই সময়ে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন জলবাহিত রোগের সংক্রমণ ঘটে। ডাবের পানি শরীরের হারানো পানি ও লবণীয় উপাদান পুনরুদ্ধার করে এবং দ্রুত সুস্থতার জন্য অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।