শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

বাইবেলের দোহাই দিয়ে হুঁশিয়ারি: পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের লাগাম টানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

2 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | বিশ্ব
বাইবেলের দোহাই দিয়ে হুঁশিয়ারি: পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের লাগাম টানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের জমি দখলের ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। বাইবেলের নৈতিক শিক্ষার দোহাই দিয়ে তিনি বসতিস্থাপনকারীদের হুঁশিয়ার করেছেন এবং প্রয়োজনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

পশ্চিম তীরের নতুন সংকট ও মার্কিন বার্তা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তি দখলের প্রবণতা এক চরম উদ্বেগের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি সম্প্রতি বাইবেলের 'দশ আজ্ঞা' বা টেন কমান্ডমেন্টসের প্রসঙ্গ টেনে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য কেবল নৈতিক সতর্কবার্তা নয়, বরং দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির প্রতিফলন। কুসরা গ্রামে ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই আবু রিদির বাড়ি ঘিরে রাখার ঘটনাটি মূলত এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। হাকাবি স্পষ্ট করেছেন যে, অন্যের সম্পদ জবরদখল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি নৈতিকতার পরিপন্থী।

নিষেধাজ্ঞার হুমকি ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মার্কিন রাষ্ট্রদূত হাকাবির হুঁশিয়ারিতে শুধু নৈতিক আপিল নেই, বরং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিতও রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যারা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে সহিংসতা চালাচ্ছে বা তাদের জমি দখল করছে, তাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্ববর্তী নীতিতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নজির ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। পশ্চিম তীরে ইহুদি জাতীয়তাবাদী সহিংসতা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই আগের বছরের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াশিংটন এখন চাপের মুখে রয়েছে।

ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

পশ্চিম তীরের ই১ (E1) এলাকায় নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো এই প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, ই১ এলাকায় বসতি সম্প্রসারণ করা হলে তা জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোর মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। এটি একটি 'টু-স্টেট সলিউশন' বা দ্বি-রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানের পথে বড় বাধা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সম্মিলিত চাপ ইসরায়েলের বর্তমান সম্প্রসারণবাদী নীতিকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

উপসংহার

পশ্চিম তীরে বসতিস্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া কেবল ফিলিস্তিনিদের জন্যই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি। মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে, কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি বা সীমিত নিষেধাজ্ঞায় এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সমাধান কতটা সম্ভব, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে। আগামী দিনগুলোতে ইসরায়েলের নতুন বসতি প্রকল্পের দরপত্র এবং আন্তর্জাতিক চাপের ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।