রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

বরিশালের মাদরাসায় এগারো বছরের নাজেরা বিভাগের ছাত্রীর রহস্যজনক প্রয়াণ

3 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 6 ঘন্টা আগে | সারাদেশ

Administrator

বরিশালের মাদরাসায় এগারো বছরের নাজেরা বিভাগের ছাত্রীর রহস্যজনক প্রয়াণ

একটি আবাসিক মাদরাসায় এগারো বছর বয়সী ছাত্রীর রহস্যময় মৃত্যু বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ব্যাপক শোক এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ তদন্ত চলমান রয়েছে এবং স্থানীয় জনগণ সত্যের উদ্ঘাটন দাবি করছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

জান্নাতুল ফেরদাউস, মাত্র এগারো বছর বয়সী, রাজশাহীর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানায় অবস্থিত নালুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকারী একটি পরিবারের সন্তান। তার পিতা মো. সান্টুর সৌদি আরবে কর্মরত, এবং পরিবার দীর্ঘদিন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামে নানার বাসস্থানে নিবাস করে আসছিল। এই এলাকায় একটি আবাসিক মাদরাসায় তালিকাভুক্ত হয়ে পড়াশোনা করছিল জান্নাতুল।

এই আবাসিক মাদরাসাটি মিফতাহুল জান্নাহ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদরাসা নামে পরিচিত এবং গত বছরের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু ইউসুফ খন্দকার এবং শিক্ষক জহুরুল ইসলাম আকন একটি ভাড়া করা বাড়িতে এটি পরিচালনা করছেন। দুইজন মহিলা শিক্ষিকা নিয়োগ করে বর্তমানে ১৫ জন ছাত্রীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চলছে, যেখানে জান্নাতুল নাজেরা বিভাগে অধ্যয়ন করছিল।

সোমবার রাতের এই দুর্ঘটনায় মাদরাসার অন্যান্য ছাত্রীরা একটি কক্ষ অভ্যন্তরীণ তালাবদ্ধ দেখে উদ্বিগ্ন হন। জানালার কাচের মাধ্যমে অভ্যন্তরণ পর্যবেক্ষণ করলে তারা এক ভয়াবহ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন—জান্নাতুলের গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো এবং তা জানালার গ্রীলে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংবাদ শুনে মাদরাসার দায়িত্বশীল শিক্ষিকা এবং স্থানীয় জনগণ দরজা ভাঙিয়ে প্রবেশ করেন এবং তাকে নামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তখন কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

জান্নাতুলের মা সুর্বনা বেগম জানান যে স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি তার দুই কন্যাকে নিয়ে কাসেমাবাদ গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করছেন। মৃত সাহেব আলী ফকিরের এই পৈতৃক বাসস্থানে দীর্ঘ অবস্থানের পর জান্নাতুল আবাসিক মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিল।

ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হয়ে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে জানান। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন যে খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে এবং মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এই মৃত্যুর আসল কারণ নির্ধারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

জান্নাতুলের স্বজনরা খবর পেয়ে মাদরাসায় ছুটে আসেন এবং এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য দেখতে পান। এই ঘটনা সম্পূর্ণ এলাকায় গভীর শোক এবং বেদনার সৃষ্টি করেছে। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় সম্প্রদায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন যাতে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পূর্ণভাবে উদঘাটিত হয়।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।