ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতিতে মধ্যরাতে পুকুরপাড়ে সাক্ষাতের প্রস্তাব: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
Administrator
নরসিংদীর শিবপুরে এক বিএনপি নেতা সরকারি সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে মধ্যরাতে অনৈতিক সাক্ষাতের প্রস্তাব রেখেছেন বলে অভিযুক্ত হয়েছেন, যা তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক নারী বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সরকারি সুবিধা প্রদানকে কাজে লাগিয়ে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে প্রাপ্য কল্যাণকর সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন কারণ তিনি তার অনৈতিক প্রস্তাবে সাড়া দেননি।
মঙ্গলবার শিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন ওই নারী। স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের পর থেকে তিনি বান্ধারদিয়া এলাকায় তার বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। তার অভিযোগে রয়েছে যে, আশরাফ উদ্দিন আকন্দ তাকে রাত ১২টার সময় পুকুরের পাশে একান্তে সাক্ষাত করতে বলেছিলেন এবং এর বিনিময়ে একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নারীটি তার দুর্ভোগের কাহিনী বর্ণনা করেন। তিনি জানান যে, এই ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে তাকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
আশরাফ উদ্দিন আকন্দ এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, তার দলের ভেতরকার কিছু ব্যক্তি তাকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে এই প্রচারণায় জড়িত। তার ভাষ্যমতে, পাঁচ মাস পূর্বে তার পায়ের হাড় ভেঙে গেছিল এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা এখনও অর্জন করেননি। এমন শারীরিক অবস্থায় রাতের অন্ধকারে পুকুরের পাশে যাওয়া বাস্তবসম্মত নয়। আকন্দ আরও বলেছেন যে, অভিযোগকারী নারী মাছিমপুর ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভোটার, যে গত ঈদে তার কাছ থেকে কাপড় এবং চাল পাওয়ার জন্য আসা অভিযোগ করছে।
শিবপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এই ব্যাপারে মন্তব্য করে বলেছেন যে, তিনি ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখেছেন এবং আশরাফ উদ্দিন তার সাথে যোগাযোগ করে পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, যদি তদন্তে অভিযোগের ভিত্তি প্রমাণিত হয় তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যদি এটি মিথ্যা অভিযোগ হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ রিকাবদার এই ঘটনার প্রতি পৌর বিএনপির নেতৃত্বের গুরুত্ব প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, পূর্ণ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিরূপণ করে সমুচিত পদক্ষেপ নিতে পৌর সংগঠনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, লিখিত অভিযোগ দাখিল পেলে সেটি আইনসংগত তদন্ত-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে এবং আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন যে, মঙ্গলবার সেই নারী তার অফিসে এসে কথাবার্তার মাধ্যমে অভিযোগটি জানিয়েছিলেন। তিনি তার কাছ থেকে থানায় গিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করার অনুরোধ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান সম্পন্ন করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য থানা কর্তৃপক্ষকে আবেদন করবেন।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।