পুকুরে ডুবে মৃত্যু হয় চরফ্যাশনে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর
Administrator
চরফ্যাশনে পুকুরে গোসলকালে ডুবে মৃত্যুবরণ করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাবিব মাহমুদ খান, যিনি ছিলেন আইনজীবীর পুত্র এবং সাঁতার জানতেন না।
চরফ্যাশন এলাকায় ঘটা এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. লাবিব মাহমুদ খান (১৫) জীবন হারিয়েছেন। সোমবার দুপুর আড়াইটার সময় সরকারি টি.বি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন ডাকবাংলোর পুকুরে গোসল করার সময় তিনি পানিতে ডুবে যান।
ডুবে যাওয়া ছাত্রটি চরফ্যাশন সরকারি টি.বি. মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তার পিতা চরফ্যাশন আদালতের খ্যাতিমান আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিহাব মাহমুদ।
ঘটনার দিন বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। খেলা চলাকালীন একাধিক শিক্ষার্থী পাশের পুকুরে সাঁতার কাটার জন্য পানিতে নেমে যায়, এবং লাবিবও তাদের সাথে যোগ দেন।
শিক্ষার্থীরা যখন পানিতে ছিল, তখন হঠাৎ লাবিব অদৃশ্য হয়ে যায়। তার সহপাঠীরা তাকে খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমকে জানান। প্রধান শিক্ষিকা অবিলম্বে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করেন।
ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত উদ্ধার অভিযানে অগ্রসর হয় এবং পুকুর থেকে লাবিবকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে পৌঁছায়। তবে হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ইতিমধ্যে প্রাণহীন পেয়ে মৃত ঘোষণা করেন।
চরফ্যাশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বশীল চিকিৎসক ডাক্তার রিয়াজ হোসেন জানান যে লাবিব হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের মতে, নিহত ছাত্রটি সাঁতার জানতেন না।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি জানান যে তার উপস্থিতিতেই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম গভীর আবেগে বলেন, 'লাবিব আমাদের এক অসাধারণ ও আশাব্যঞ্জক শিক্ষার্থী ছিল। তার সঙ্গী ছাত্রদের সাথে গোসলের সময় তিনি পানিতে তলিয়ে যান। খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ফায়ার সার্ভিসকে ডাকি এবং তারা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এমন সম্ভাবনাময় এক জীবনের এত তাড়াতাড়ি পরিণতি আমাদের হৃদয় ভেদ করে গেছে। আমরা তার পবিত্র আত্মার চিরশান্তি কামনা করি এবং শোকাগ্রস্ত পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করি।'
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান যে বর্তমানে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে যদি কোনো অভিযোগ আসে তাহলে প্রাসঙ্গিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।