পাকুন্দিয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু ব্যবসা: ভাঙনের মুখে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের দুই তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত কৃষিজমি ও বসতভিটা বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের মুনিয়ারিকান্দা এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করছে। ভারী ড্রেজার মেশিনের সাহায্যে সার্বক্ষণিক বালু তোলার কারণে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের চাষযোগ্য জমি এবং বসতবাড়িগুলো বিলীন হওয়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে বলগেট নৌকার মাধ্যমে কটিয়াদী, হোসেনপুর, গফরগাঁও, কাপাসিয়া ও মনোহরদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে। অপরিকল্পিত এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে এবং তীরবর্তী অবকাঠামোগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।
উল্লেখ্য যে, পাকুন্দিয়ার চরকাওনা ও চরলক্ষ্মীয়া বালুমহালের ইজারা ২০১৯ সাল থেকে স্থগিত রয়েছে। বৈধ ইজারা না থাকায় একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে রাতের আঁধারে বালু চুরির মহোৎসব চলছে। স্থানীয়দের মতে, সঠিকভাবে ইজারা প্রদান ও কঠোর তদারকি থাকলে নদীর পাড় ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে জনবলের সীমাবদ্ধতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি স্থানীয়দের সচেতনতা ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, সরকার নির্ধারিত বালুমহালগুলোর ইজারা প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।