নোবিপ্রবিতে অস্থিরতা: ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করেছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।
সংঘাতের নেপথ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) গত কয়েকদিনের অস্থিরতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশনায় এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সংঘর্ষের কারণ ও প্রেক্ষাপট
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট দিবাগত রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ আব্দুস সালাম হল এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ১৮ আগস্ট দুপুরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে এই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ এবং ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের সূত্রপাত। দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার এবং একাধিক শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসনের তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে অতিরিক্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ করণীয়
শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বহিরাগতদের প্রভাব বিস্তার রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্ত সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে সহায়ক হতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য (0)
মন্তব্য নীতিএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।