রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

‘না যুদ্ধ, না শান্তি’র অচলাবস্থা ভাঙতে মরিয়া তেহরান: পেজেশকিয়ানের নতুন কৌশলের নেপথ্যে

2 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | বিশ্ব
‘না যুদ্ধ, না শান্তি’র অচলাবস্থা ভাঙতে মরিয়া তেহরান: পেজেশকিয়ানের নতুন কৌশলের নেপথ্যে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের অর্থনীতির স্বার্থে ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষা করে দীর্ঘদিনের ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে নতুন কূটনৈতিক কৌশলের ঘোষণা দিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

অচলাবস্থার শিকল ভাঙার সংকল্প

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এক সাহসী ও বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হাজির হয়েছেন। দীর্ঘদিনের ‘না যুদ্ধ, না শান্তি’র ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে ইরানকে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই তার বর্তমান লক্ষ। শনিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান তার মৌলিক নীতি ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করবে না, তবে সংঘাতের অনিশ্চয়তা জিইয়ে রেখে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা অসম্ভব।

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বনাম ভূ-রাজনৈতিক চাপ

পেজেশকিয়ানের মতে, যুদ্ধের দামামা যেমন ধ্বংসাত্মক, তেমনি দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কাও অর্থনীতির জন্য বিষাক্ত। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে একটি টেকসই সমঝোতার বিকল্প নেই। তিনি এমন একটি কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছেন যেখানে ইরানের সামরিক শক্তি অক্ষুণ্ন থাকবে, কিন্তু কূটনীতির টেবিলে যুক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতার নতুন সমীকরণ

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) জোরালো সমর্থন করেছেন। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত এই সমঝোতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন থাকলেও, পেজেশকিয়ান একে কোনো প্রকার আত্মসমর্পণ বলে মানতে নারাজ। তার ভাষায়, এটি কেবল শত্রুতা সাময়িক স্থগিত নয়, বরং একটি সম্মানজনক সমাধানের পথে প্রথম পদক্ষেপ। তবে হরমুজ প্রণালী ও বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে মতপার্থক্য এখনো আলোচনার গতিকে ধীর করে রেখেছে।

ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা

পেজেশকিয়ানের এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হলো ইরানের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা। তিনি মনে করেন, কেবল সংঘাতের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ইরানের কর্মকর্তাদের প্রতিদিনের এই ম্যারাথন আলোচনা মূলত একটি নতুন জাতীয় ঐকমত্যের ইঙ্গিত দেয়, যা ভবিষ্যতে দেশটির ওপর নতুন কোনো হামলার সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করবে। তেহরান এখন এমন একটি ভারসাম্য খুঁজছে, যা তাদের অস্তিত্বের সংকট দূর করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে পুনরুত্থান নিশ্চিত করবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।