মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ: সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনা

2 ঘন্টা আগে | আপডেট: 19 মিনিট আগে | জাতীয়
ঢাকার পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ: সংকট নিরসনে নতুন সম্ভাবনা

ঢাকার পানির সংকট নিরসনে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পসহ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কের বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

ঢাকার পানির সংকট ও টেকসই সমাধান

দ্রুত বর্ধনশীল ঢাকা মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে ভূ-পৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এই প্রেক্ষাপটে ডেনমার্কের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন ব্রিক্স মোলারের মধ্যকার সাম্প্রতিক বৈঠকটি এই সহযোগিতারই একটি প্রতিফলন।

সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার: একটি মাইলফলক

বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা ঢাকার পানি সরবরাহের মানচিত্রে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম। প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পে ডেনমার্কের ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার অনুদান এবং ৩ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদী ঋণ সহায়তা একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা শহরের বিশাল জনগোষ্ঠীর পানির সংকট অনেকাংশেই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা

শুধু পানি সরবরাহ নয়, বরং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশকে আধুনিক শহর গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ বা জ্বালানি উৎপাদনের যে সম্ভাবনা ডেনমার্কের বিনিয়োগের মাধ্যমে তৈরি হতে যাচ্ছে, তা ঢাকার পরিবেশ সুরক্ষায় ও টেকসই নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে শহরকে দূষণমুক্ত করার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, সেখানে ডেনমার্কের কারিগরি সহায়তা অপরিহার্য।

উপসংহার ও ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের এই দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত স্থায়িত্বের একটি অংশ। সায়েদাবাদ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ঢাকার পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেনমার্কের সাথে বাংলাদেশের উন্নয়নমূলক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে ঢাকা একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।