শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

ঢাকায় সাফ: বাংলাদেশের দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষ করার সময়

2 সপ্তাহ আগে | আপডেট: 6 দিন আগে | খেলা

Administrator

ঢাকায় সাফ: বাংলাদেশের দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা শেষ করার সময়

বাংলাদেশ দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ২৩ বছরের শিরোপা শূন্যতা শেষ করতে প্রস্তুত, নভেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া প্রতিযোগিতায় জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

আগামী নভেম্বরের প্রথম দিন থেকে মাস মধ্য পর্যন্ত (৪-১৭ নভেম্বর) সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ঘরে, ঢাকায়। এই দক্ষিণ এশীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা দেশে আয়োজনের এই সুযোগ বাংলাদেশ ফুটবল দল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। দেশের ফুটবল জগৎ এখন এই টুর্নামেন্টের চারপাশে সমবেত হয়েছে। কোচ থমাস ঢুলি, যিনি নিজেও দুইবার বিশ্বকাপ খেলেছেন, তিনি এবং তার সহযোগীরা আশা ও উদ্দীপনায় পূর্ণ।

বাংলাদেশের ফুটবল সম্ভবত তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের মুখোমুখি হতে চলেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর আগে, ২০০২ সালে, বাংলাদেশ শেষবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল এবং সেটা ছিল এই শহরেই, ঢাকায়, নিজের মাটিতে। সেই ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল মালদ্বীপ, এবং বাংলাদেশ টাইব্রেকিংয়ে তাদের পরাজিত করে শিরোপা জিতেছিল। এর পর থেকে দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই প্রতিযোগিতায় ট্রফি বাংলাদেশের হাতে আসেনি। এখন সেই দীর্ঘ ক্ষত সারানোর, সেই হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার মুহূর্ত এসেছে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া-কর্মক্ষমতা ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। এই বছরের জুনের শুরুতে, নির্দিষ্টভাবে ৫ জুনে, বাংলাদেশ ইউরোপীয় দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে খেলেছিল এবং ২-১ গোলে জয়লাভ করেছিল। এই বিজয় দলের আত্মবিশ্বাস এবং সমর্থকদের প্রত্যাশা উভয়ই বৃদ্ধি করেছে।

কোচ থমাস ঢুলি শুধুমাত্র আশাবাদী নন, বরং সাফের জন্য একটি বিস্তৃত কৌশলগত পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছেন। গত দেড় মাস ধরে তিনি সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছেন - তাদের আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিং, তাদের খেলার ধরন, এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশের সাথে তাদের পার্থক্যগুলো বিশ্লেষণ করেছেন। তার মূল উদ্দেশ্য খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা যাতে তারা প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে জয়ের সংকল্প নিয়ে মাঠে নামে। কোচের দর্শন পরিষ্কার: "কার বিপক্ষে খেলছি সেটি বড় কথা নয়। আমি যখন খেলেছি তখন আমাদের মানসিকতা থাকত জিততে হবে। আর যখন কোচিং ক্যারিয়ারে ঢুকেছি তখনো আমার লক্ষ্য ছিল জিততে হবে। তাই বলব, আমরা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলছি না। আমাদের চেয়ে র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা কিংবা পিছিয়ে থাকা দেশের বিপক্ষে খেলছি। সেটা মাথায় রাখতে হবে। এখানে দেখতে হবে মাঠে নামার আগে প্লেয়ারদের মানসিকতা কী রকম থাকে।"

এই বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ দলের সাফল্য নির্ভর করবে একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর - মাঠে খেলোয়াড়দের সর্বাত্মক পরিশ্রম এবং দর্শকদের সমর্থন। কোচ মনে করেন, স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা এমনভাবে তাদের উপস্থিতি জানাবেন যা প্রতিদ্বন্দ্বীদের মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং তাদের ভুল করতে বাধ্য করবে। এই উপায়ে বাংলাদেশ তার সুযোগ সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে পারবে। কোচের অনুরোধ সহজ কিন্তু প্রার্থনাসূচক: "আমি চাই দর্শক যেন খুশি মনে বাড়ি ফেরে।"

সহায়ক কোচ তপু বর্মন এবং শেখ মোরসালিন কোচের কৌশল এবং মানসিকতা সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করছেন। কোচ তাদের সতর্ক করেছেন যে বিপক্ষীদের অবমূল্যায়ন করলে টুর্নামেন্ট অসাধারণ কঠিন হয়ে উঠবে - "যদি তারা প্রতিপক্ষকে সহজভাবে গ্রহণ করে তাহলে সাফ টুর্নামেন্ট কঠিন হবে।" মোরসালিন দলের অঙ্গীকার প্রতিফলিত করে বলেছেন: "কোচের ভাবনাটা আমাদের মধ্যেও রয়েছে। আমি খুবই এক্সাইটেড, ওভার এক্সাইটেড হতে চাই না। সাফ শিরোপাটা ঘরে রাখতে চাই।" টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোচ নিজে স্পষ্ট করে দিয়েছেন: "টুর্নামেন্টের লক্ষ্য কী প্রশ্ন করা হলে আমি বলব, অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ২০০২ সালে শেষবার ঢাকায় নিজ মাটিতে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তারপর ২৩ বছর কেটে গেছে। সেটা আরেক বার ধরতে চাই।"

বাংলাদেশ ফুটবল দলের একটি দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা হল গোল সংখ্যা বৃদ্ধি করতে না পারা। এই সমস্যা সম্পর্কে কোচ তীক্ষ্ণভাবে মন্তব্য করেছেন: "বল জালে জড়াতে হবে। আমরা শুধু কথা বলতে থাকি। শুধু কথা বললে হবে না। মাঠেও সেটা প্রমাণ করতে হবে, তা না হলে হবে না।" এটি দলের সাধারণ মনোভাব পরিবর্তনের আহ্বান।

বাড়ির মাঠে প্রতিযোগিতা করার স্বাভাবিক সুবিধা থাকলেও তপু বর্মন এবং দলের সদস্যরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন। তপু বলেছেন: "অ্যাডভান্টেজ তো অবশ্যই আছে কিন্তু ওভার কনফিডেন্স হওয়া যাবে না। আমাদের অলরেডি কোচ বলেছেন, অনেক ট্রেনিং সেশন অনেক ভিডিও ভিডিও অ্যানালাইসিস করবে, সবকিছু মিলিয়ে অবশ্যই একটা পজিটিভ ভাব নিয়ে আমরা খেলতে নামব। তারপরে ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা ভালো খেলার চেষ্টা করব, সেখান থেকে আমার কাছে মনে হয় যে আমাদের কাঙ্ক্ষিত রেজাল্ট নিয়ে আসতে পারব।"

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।