শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার: দুই শতাব্দীর কৃষি ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের আখ্যান

3 ঘন্টা আগে | আপডেট: 1 ঘন্টা আগে | জাতীয়
ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা বাজার: দুই শতাব্দীর কৃষি ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক সংকটের আখ্যান

ঝালকাঠির দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারা বাজার আজ অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে। আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সত্ত্বেও পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই অঞ্চল।

সর্বশেষ সব খবরের জন্য দৈনিক খবর সংযোগের গুগল নিউজ চ্যানেল অনুসরণ করুন।

ঐতিহ্যের জলপথ ও ভাসমান অর্থনীতির চাকা

বাংলার প্রকৃতির এক অনন্য বিস্ময় ঝালকাঠির ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজার। প্রায় দুই শতাব্দী ধরে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত এই জনপদ রূপ নেয় এক বিশাল জলজ কর্মযজ্ঞে। খালের বাঁকে বাঁকে ডিঙি নৌকার সারি আর তাতে সবুজ-হলুদ পেয়ারার সমারোহ কেবল একটি বাজার নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভিয়েতনামের মেকং ডেল্টার মতোই এই ভাসমান হাট এখন বাংলাদেশের কৃষি পর্যটনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা

পদ্মা সেতু চালুর পর এই অঞ্চলের বাণিজ্যে এসেছে নতুন গতি। এখন ট্রাক ও পিকআপ সরাসরি ভীমরুলী ও কুড়িয়ানার মোকামে পৌঁছে যাচ্ছে, যা পণ্য পরিবহনের সময় ও খরচ কমিয়ে দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৫৬২ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ৫ হাজার ৬২৬ মেট্রিক টন পেয়ারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই বিশাল সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হলো হিমাগারের অভাব। পেয়ারা পচনশীল হওয়ায় সঠিক সংরক্ষণের অভাবে প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও চাষিদের সংকট

চলতি মৌসুমে প্রকৃতির বৈরী আচরণ চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। তীব্র খরা ও অস্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে মুকুল ঝরে পড়ায় উৎপাদন গতবারের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। চাষিরা সার ও পরিচর্যার সঠিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ফলন বিপর্যয়ের মুখে। বিমল মিস্ত্রি বা ফণী ভূষণ দাসের মতো প্রান্তিক চাষিরা মনে করেন, শুধু ভালো দাম নয়, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সহায়তা ছাড়া এই ঐতিহ্য ধরে রাখা কঠিন।

পর্যটন শিল্পের নতুন দিগন্ত

কৃষির পাশাপাশি এখন পর্যটন এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইকো-কটেজ ও পিকনিক স্পটগুলো বিদেশি পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করছে। তবে টেকসই পর্যটন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে ঝালকাঠির এই পেয়ারা বাজার কেবল স্থানীয় নয়, জাতীয় অর্থনীতির এক শক্তিশালী স্তম্ভে পরিণত হতে পারে। প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগই পারে এই দুই শতাব্দীর ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপ দিতে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য নীতি

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনি করুন।